সংবাদ প্রকাশের পর তড়িঘড়ি আয়োজন: গঙ্গাচড়ায় বিজ্ঞান মেলা নিয়ে নতুন বিতর্ক
নির্মল রায়,গঙ্গাচড়া (রংপুর):
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উপলক্ষে নির্ধারিত সময়ে বিজ্ঞান মেলা আয়োজন করতে ব্যর্থ হওয়ার পর সংবাদ প্রকাশের প্রেক্ষিতে তড়িঘড়ি করে মেলার আয়োজন করেছে উপজেলা প্রশাসন। তবে সেই আয়োজন নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, পুরো আয়োজন ছিল ‘দায়সারা’ ও ‘অগোছালো’।
গত ১৩ এপ্রিল দৈনিক আমাদের প্রতিদিন-এর অনলাইন সংস্করণ এবং ১৪ এপ্রিল প্রিন্ট সংস্করণে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে উপজেলা মাল্টিপারপাস হলরুমে মেলার আয়োজন করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, মেলায় মোট ১৩টি স্টল থাকলেও এর মধ্যে ৫টি স্টল ফাঁকা ছিল। অংশগ্রহণকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতিও ছিল অত্যন্ত সীমিত। এতে আয়োজনের মান ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“গত বৃহস্পতিবার বিকেলে আমাদের কাছে মেলা আয়োজনের চিঠি দেওয়া হয়। পরদিন শুক্র ও শনিবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্রস্তুতির কোনো সুযোগ ছিল না। বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনে ডেকে এনে অনেক প্রতিষ্ঠান আগের তৈরি প্রজেক্ট দিয়েই মেলায় অংশ নিয়েছে।”
শিক্ষার্থীরাও হতাশা প্রকাশ করে বলে,
“আগে উপজেলা মাঠে পরিকল্পিতভাবে মেলা আয়োজন করা হতো। কিন্তু এবার মাল্টিপারপাস হলরুমে দায়সারা আয়োজন করা হয়েছে। পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় আমরা ভালো কিছু উপস্থাপন করতে পারিনি।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আরিফ মাহফুজ বলেন,
“শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কেন যথাযথভাবে অংশগ্রহণ করেনি, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন,
“মাঠে স্টল করে মেলা আয়োজনের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কেন অংশ নেয়নি, সেটিও আমরা দেখবো।”
তবে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে মেলা আয়োজন না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
উল্লেখ্য, অর্থ বরাদ্দে দেরি ও প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে ৮–৯ এপ্রিল নির্ধারিত সময়ে মেলা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছিল উপজেলা প্রশাসন। পরে হঠাৎ করে আয়োজন করায় পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় শিক্ষক ও সচেতন মহলের অভিযোগ, পরিকল্পনার অভাব, সমন্বয়হীনতা এবং অবহেলার কারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কর্মসূচি যথাযথ মর্যাদা পায়নি। তারা দ্রুত দায় নিরূপণ এবং ভবিষ্যতে এমন অব্যবস্থাপনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।