অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল গিলে খাচ্ছে দেশি প্রজাতির মাছ
আজাদুল ইসলাম আজাদ,পীরগঞ্জ রংপুর:
চায়না দুয়ারি জাল অবৈধ ঘোষণা করা হলেও তা মানছে না কেউ। ডোবা জলাশয়ে বর্ষা মৌসুমে ছোট-বড় সকল জাতের মাছ ছুটে চলে আকাবাকা পথে। হঠাৎ বৃষ্টির পানিতে দেশিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উজান মুখে পাল্লা দিয়ে চলতে গেলেই বাধা দিচ্ছে মরন এই জাল। আর সেই জালে মা পোনাসহ সকল ধরনের মাছ আটকে যাচ্ছে নিরন্তর।
রংপুরের পীরগঞ্জে ১ টি পৌরসভা এবং ১৫ টি ইউনিয়নের নদী নালা খালবিল এখন অসংখ্য চায়না দুয়ারি জালের দখলে। এ জাল দিয়ে অবাধে আটক করা হচ্ছে ছোট বড়ো সবধরনের মাছ। যে কারণে ছোট মাছ হাটবাজারে মিলে কম।
স্থানীয়রা বলছেন, কারেন জাল বা চায়না দুয়ারি জাল আটক নিয়ে তেমন কোন বাধা নেই উপজেলা মৎস্য বিভাগের। উপজেলার হাট-বাজার গুলোতে প্রকাশে বিক্রি করা হচ্ছে এই জাল। এলাকার লোকজন দিনে-রাতে মাছ শিকার করছে অবৈধ এই জাল গুলো দিয়ে। মাছ শিকারের নতুন ফাদ চায়না দুয়ারি জাল সব খানেই ব্যাপকভাবে চড়িয়ে গেছে। এতে করে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের বিলুপ্তির শঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা।
সোমবার সরেজমিনে উপজেলা ঘুরে দেখা যায় এখানে জেলেসহ সাধারণ মানুষ এই জালে মাছ শিকার করছে। আর এই ফাঁদে দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এই ফাঁদ বসালে পানি প্রবাহে বাধার সৃষ্টি হয়ে জালের ছিদ্র ছোট হওয়ায় ছোট-বড় কোনো মাছ বের হওয়ার সুযোগ থাকেনা। লোহার রডের গোলাকার বা চতুর্ভুজ আকৃতির কাঠামোর চারপাশে চায়না জাল দিয়ে ঘিরে এই চায়না দুয়ারি নতুন ফাঁদ তৈরি করা হয়েছে। এলাকার হাটবাজারে দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছের পোনা বিক্রি করা হচ্ছে হরদমই , যেগুলো চায়না দুয়ারি দিয়ে ধরা বলে স্থানীয়রা দাবি করছে।
উপজেলার চতরা ইউনিয়নের মৎস্য জীবির মাফু মন্ডল বলেন, পানির উভয় দিক থেকে ছুটে চলা যেকোনো মাছ সহজেই এতে আটকা পড়ে। এর ভিতর ছোট-বড় মাছ ঢুকলে বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্রশাসনের চোখের সামনে এভাবে অবৈধ জাল দিয়ে মাছ আটক করা হচ্ছে নিরন্তর।
উপজেলার সচেতন মহলের লোকজন বলছেন, চায়না দুয়ারি জাল এসে আমাদের দেশীয় মাছের বংশ শেষ করে দিচ্ছে। এই জালের কারনে দেশীয় মাছ ক্রমেই উধাও হয়ে যাচ্ছে। শুধু দেশি জাতীয় ছোট মাছ নয় বরং এই জালে আটকা পড়ে সকল প্রজাতির জলজ জীব। স্বল্প ব্যয়ে এবং স্বল্প পরিশ্রমে অধিক আয়ের উৎস হওয়ায় মাছ আরোহীদের কাছে খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এটি। ক্ষুদ্রাকৃতির কোনো মাছের পক্ষেও সম্ভব নয় এ ফাঁদ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার। এই জাল দীর্ঘদিন ধরে এভাবে চলে আসলেও প্রশাসনের ভূমিকা বা নজরদারির অভাব । আর এই অবৈধ জাল গুলো থেকে রেনু পোনা বাঁচতে চায়।
গত রোববার উপজেলায় ১৩ টি স্পষ্ট থেকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা কারেন্ট জাল এবং চায়না দুয়ারি আটক করে আগুনে পুড়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা কাওছার হোসেন। তিনি আরও বলেন অবৈধ কারেন্ট জাল এবং চায়না দুয়ারি জাল ধারাবাহিক ভাবে আটক অভিয চলমান রয়েছে।