১২ শ্রাবণ, ১৪৩৩ - ২৭ জুলাই, ২০২৬ - 27 July, 2026

সংবাদ প্রকাশের পরই ব্যবস্থা, দুই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে শোকজ

119
2026-07-27 18:38:11

news-picture

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও কর্মস্থলে অনিয়মের অভিযোগে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ জারি করা হয়েছে। সম্প্রতি বিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর শিক্ষা বিভাগ এ পদক্ষেপ নেয়।

গত ২৩ জুলাই প্রকাশিত আমাদের প্রতিদিন পত্রিকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্ধারিত সময়ের আগে ছুটি, শিক্ষকদের বিলম্বে উপস্থিতি, দায়িত্বে অবহেলা ও শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয় তুলে ধরা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গত ২৬ জুলাই মটুকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছা. মরিয়ম বেগমের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে বিলম্বে উপস্থিত থাকার অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ২২ জুলাই তিনি নির্ধারিত সময়ের পরে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন, যা সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯-এর পরিপন্থী। কেন তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে না, সে বিষয়ে তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, কে.এন.বি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রদীপ চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে অননুমোদিতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে পৃথক কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে বলা হয়, গত ৯ জুলাই দুপুর প্রায় ২টার দিকে তিনি কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়াই বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন, যা সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯ এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর লঙ্ঘন। তাঁকেও তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মতে, অনিয়মের অভিযোগের পর প্রশাসনের এ পদক্ষেপ ইতিবাচক। তবে শুধু শোকজ নোটিশেই দায়িত্ব শেষ না করে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থায়ীভাবে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত নজরদারি, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণই সবচেয়ে কার্যকর উদ্যোগ হবে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়