২৪ ফাল্গুন, ১৪৩২ - ০৮ মার্চ, ২০২৬ - 08 March, 2026

আলু চাষ করে লোকসানে রংপুরের কৃষক

9 hours ago
30


নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুরে আলু চাষ করে হতাশ কৃষকরা। গত বছরের ন্যায় রংপুরে এ বছরও আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তুলতে শুরু করেছে আলু, আলু তুলে লোকসানের মূখোমুখি হচ্ছে কৃষকরা। রংপুরে প্রতিকেজি আলুর উৎপাদন খরচ ১৪-১৫ টাকা হলেও কৃষককে আলু তুলে বিক্রি করতে হচ্ছে ৮ থেকে ৯ টাকায়। ফলে চরম লোকসানের পথে বসার উপক্রম কৃষকদের। যেখানে এক কাপ চায়ের দাম ১০ টাকা। আলু দিয়ে তৈরি সিঙ্গারার দাম ১০ টাকা। অথচ এক কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ৯ টাকায়। গত বছরের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই এবারও একই শঙ্কা ঘিরে ধরেছে কৃষকদের। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, আলুর ন্যায্য দাম নিশ্চিতে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, কৃষকদের লোকসান কাটানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সরেজমিনে ও কৃষক সূত্রে জানা যায়, প্রতি কেজি আলুতে তাদের খরচ ১৪-১৫ টাকা হলেও তাদের বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৮ থেকে ৯ টাকায়, যেখানে কেজিতে লোকসান হচ্ছে ৬-৭ টাকা। লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচই ওঠছে না কৃষকদের। লোকসানের বোঝা টানতেই হাঁপিয়ে উঠেছেন কৃষকেরা। গত বছরের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই এবারও একই শঙ্কা ঘিরে ধরেছে তাঁদের। এতে হতাশায় ভুগছেন সাধারণ কৃষকগণ। 

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রংপুর জেলায় এবার আলুর আবাদ হয়েছে ৫৪ হাজার ৭শত ৫০ হেক্টর জমিতে যা লক্ষমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। ফলে চাহিদার চেয়েও অনেক বেশী ফলন হয়েছে। তাই গতবারের ন্যায় আলুর দাম কম। এথেকে পরিত্রানের জন্য কাজ করছে কৃষি বিভাগ।

আলু চাষী মিঠাপুকুরের ভক্তিপুর এলাকার সাহাদত বলেন, প্রতি বিঘায় আলুতে ৫০ হাজার টাকা খরচ হলেও, বর্তমান দামের ৩০ হাজার টাকার আলু পাচ্ছেন তারা। আলু কেজিপ্রতি উৎপাদন খরচ ১৫ থেকে ১৬ টাকা আর  বিক্রি দাম ৮ থেকে ৯ টাকা। যা উৎপাদন খরচের প্রায় অর্ধেক। দাম কম এবং পচনশীল হওয়ায় হিমাগার ছাড়া সংরক্ষণ করার উপায় নেই।

একই এলাকার চাষী আহাম্মদ বলেন, আলুই যেন হলো কৃষকদের গলার কাটা। তাই সরকারকে অবশ্যই বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে। তবেই আলু চাষীরা বাচঁবে।

এদিকে সজিব, সালাম, স্বপনসহ কয়েকজন চাষী বলছেন, আলু বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা করে দিলে লাভ নাহলেও উৎপাদন খরচ উঠবে। এ ব্যপারে সরকারকেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ ব্যপারে জানতে চাইলে কৃষক সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক এডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ বলেন, কৃষকদের উৎপাদিত আলুর মূল্য নিশ্চিতে সরকারকেই দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। আলু সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগারের ব্যবস্থা রাখাসহ ৩৩ শতাংশ মূল্য সহায়তা দিয়ে সরাসরি কৃষক পর্যায় থেকে আলু ক্রয়ের ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানি করারও উদ্যোগ নিতে হবে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মাঠ ও বাজার পরিদর্শক শাহজালাল ইসলাম জানান,  আলু চাষীদের সুবিধার্থে জেলায় ৪১ টি হিমাগারে প্রায় ৪ লক্ষ ৪১ হাজার ১শত মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণ করা যাবে। বিদেশে রপ্তানি করার জন্য রপ্তানিকারক, এজেন্ট, ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনার কথাও জানান এই কর্মকর্তা।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

// Set maxWidth