২ চৈত্র, ১৪৩২ - ১৬ মার্চ, ২০২৬ - 16 March, 2026

প্রমোদ ভ্রমণের নামে চিলমারী বন্দরে অবৈধভাবে হাউস বোট

1 hour ago
12


চিলমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের চিলমারী নৌবন্দরের ব্রহ্মপুত্র নদে কোনো ধরনের রুট পারমিট বা বৈধ অনুমতি ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে নোঙর করে রাখা হয়েছে একটি হাউস বোট। প্রমোদ ভ্রমণের কাজে ব্যবহৃত এই নৌযানটি বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থান করায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বাণিজ্যিকভাবে ভ্রমণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং এতে সরকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

জানা গেছে, ‘মাস্তুল’ নামের হাউস বোটটি চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে চিলমারী নদীবন্দরের রমনা ঘাট এলাকায় অবস্থান করছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে থাকলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে কোনো বৈধ রুট পারমিট বা অনুমোদন নেওয়া হয়নি।

সরেজমিন দেখা যায়, চিলমারী নদীবন্দরের রমনা ঘাট এলাকায় হাউস বোটটি নোঙর করে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, মূলত ভ্রমণপিপাসুদের জন্য প্রমোদ ভ্রমণের আয়োজন করে এই নৌযানের মাধ্যমে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঘাট-সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি বলেন, বিআইডব্লিউটিএ হাউস বোট ‘মা¯স্তুল’কে ঘাটে থাকার সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু এখানে অবস্থানের কোনো রুট পারমিট নেই। অবৈধভাবে বন্দরে জায়গা দেওয়ার পেছনে কোনো আর্থিক সুবিধা নেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকার যখন চিলমারী নৌবন্দর আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে, তখন এ ধরনের অনিয়ম বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সৌন্দর্য ক্ষুন্ন করছে। দ্রুত অবৈধভাবে অবস্থান করা হাউস বোটটি অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে হাউস বোট ‘মাস্তুল’-এর মালিক শাকিব বলেন, রুট পারমিট এখনো না থাকলেও পোর্ট অফিসারের সঙ্গে কথা বলে একটি আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই বোটটি এখানে অবস্থান করছে।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সহকারী অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম স্বপন বলেন, হাউস বোট যদি আইন অনুযায়ী বৈধভাবে পরিচালিত হয়, তাহলে আমরা সহযোগিতা করব। কিন্তু অবৈধভাবে পরিচালিত হলে তা মেনে নেওয়া যায় না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

চিলমারী নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ গোলাম মওলা শাহ বলেন, ‘বিষয়টি আগে আমার জানা ছিল না। হাউস বোটটির কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্টদের ডাকা হয়েছে।’

চিলমারী নদীবন্দরের পোর্ট অফিসার পুতুল চন্দ্র বলেন, ‘হাউস বোটটির কোনো বৈধ রুট পারমিট নেই। তবে তাদের একটি আবেদন জমা রয়েছে। তারা ঈদের আগেই স্থান ত্যাগ করবে বলে জানিয়েছে।’

এ বিষয়ে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘তিনি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

// Set maxWidth