৩ চৈত্র, ১৪৩২ - ১৭ মার্চ, ২০২৬ - 17 March, 2026

রোজার শেষ প্রান্তে জমজমাট খানসামার ঈদ বাজার

5 hours ago
24


মোঃ বুলবুল ইসলাম, খানসামা (দিনাজপুর):

"রমজানের শেষ প্রান্তে এসে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা যেন রঙিন উৎসবের নগরীতে রূপ নিয়েছে। সামনে পবিত্র ঈদুল ফিতর—আর সেই আনন্দকে ঘিরেই শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে ঈদের বাজার। সকাল গড়াতেই মানুষের ঢল নামে, আর গভীর রাত পর্যন্ত চলে কেনাবেচার ব্যস্ততা।

উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও অস্থায়ী দোকানে পা রাখলেই চোখে পড়ে উপচে পড়া ভিড়। বিশেষ করে খানসামা বাজার ও পাকেরহাট এলাকায় পোশাক, জুতা, কসমেটিকস, টুপি ও আতর এবং শিশুদের খেলনার দোকানগুলোতে যেন দাঁড়ানোর জায়গা নেই। নারীদের শাড়ি ও থ্রি-পিস, শিশুদের রঙিন ড্রেস—সবকিছুর দিকেই আলাদা টান।

বাজারে কথা হয় লায়লা নামে এক নারী ক্রেতার সঙ্গে। হাতে ধরা নতুন কেনা পোশাক দেখিয়ে তিনি বললেন, গত বছরের তুলনায় এবার দাম কিছুটা বেশি। তবু ঈদের আনন্দে প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটাতে বাড়তি খরচ করতেই হচ্ছে।

আরেক ক্রেতা আমির উদ্দিনের কথায় উঠে আসে মধ্যবিত্ত পরিবারের বাস্তবতা। তার মতে, বাজার মোটামুটি সহনীয় হলেও দাম আরেকটু কম হলে সবার জন্যই স্বস্তি বাড়ত। পাশেই এক নারী ক্রেতা জানান, পরিবারের বাজেট সীমিত। ছেলে ও বোনের কেনাকাটা শেষ হলে তবেই নিজের কথা ভাববেন—এই যেন অনেক পরিবারেরই নীরব গল্প।

আইনুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা জানালেন ভিন্ন বাস্তবতার কথা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও ঈদের খুশির কথা ভেবে সামর্থ্য অনুযায়ী কেনাকাটা করছেন তারা। অনেক নিম্নআয়ের পরিবার কিস্তিতে বা ধার করেও ঈদের বাজারে আসছেন—শুধু আপনজনের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য।

শুধু পোশাক নয়, মাছ-মাংস, সেমাই, চিনি ও দুধের দোকানগুলোতেও বেড়েছে ভিড়। তবে কিছু ক্রেতা অভিযোগ করেছেন, কোথাও কোথাও অতিরিক্ত দাম আদায়ের চেষ্টা চলছে। তাই বাজার তদারকিতে প্রশাসনের আরও সক্রিয় নজরদারির দাবি উঠেছে।

ব্যবসায়ীদের মুখেও শোনা গেল আশার কথা। খানসামা বাজারের পোশাক ব্যবসায়ী গোলাম কিবরিয়া জানালেন, ঈদকে সামনে রেখে এক মাস আগেই নতুন কালেকশন তোলা হয়েছে। শাড়ি, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি ও শিশুদের পোশাকের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

অন্যদিকে পাকেরহাটের ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান চৌধুরীর মতে, পুরুষদের শার্ট, প্যান্ট ও পাঞ্জাবির বিক্রি ভালো হচ্ছে, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে নতুন ডিজাইনের শার্ট ও জিন্সের কদর বেশি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও স্বস্তির কথা জানিয়েছেন থানা পুলিশ। থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল বাছেত সরদার জানান, এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ঈদের কেনাকাটা শেষ হবে বলে তিনি আশাবাদী।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান সরকার জানান, পবিত্র ঈদ উপলক্ষে মানুষ তাদের সাধ্যমতো কেনাকাটা করছে। বাজার পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে এবং নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে তদারকি জোরদার করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে খানসামার ঈদ বাজার যেন আনন্দ, প্রত্যাশা আর বাস্তবতার এক জীবন্ত গল্প—যেখানে ভিড়ের মধ্যেই লুকিয়ে আছে ঈদের খুশি আর মানুষের নীরব সংগ্রাম।

 

 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

// Set maxWidth