২৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ - ১০ জুন, ২০২৬ - 10 June, 2026

আদালতের নির্দেশের পর ফেঁসে যাচ্ছেন ইউপি সদস্য শাহজাদা: পিটুনির পর সামনে এলো অর্থ আত্মসাৎ!

55
2026-06-09 16:27:44

news-picture

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

মসজিদের চুরি হওয়া মাইক কেনার কথিত অভিযোগ তুলে মফিজুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ীকে ইউ-পি সদস‌্য কৃর্তক প্রকাশ্যে মধ্যযুগীয় কায়দায় মারধরের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই মারধরের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করে পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার অভিযুক্ত মদাতী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য শাহজাদা সেলিমের বিরুদ্ধে সরকারি চাল, গম ও টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, এক গ্রাম্য সালিশে ইউপি সদস্য শাহজাদা সেলিম মসজিদের চুরি হওয়া মাইক কেনার অজুহাতে ব্যবসায়ী মফিজুল ইসলামকে  গত বৃহস্পতিবার নির্মমভাবে মারধর করেন। ওই সালিশ বৈঠকে মদাতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লবও উপস্থিত ছিলেন।

ব্যবসায়ীকে মারধরের সেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তা আদালতের দৃষ্টিগোচর হয়। এরপর শুক্রবার লালমনিরহাটের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৫ এর বিচারক রাজীব মিয়া স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে (সুয়োমোটো) একটি মামলা করেন। একই সাথে ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য কালীগঞ্জ থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন।

মারধরের ঘটনার পর সোমবার অভিযুক্ত ইউপি সদস্য শাহজাদা সেলিমের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে সরকারি অর্থ ও খাদ্যশস্য আত্মসাতের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নিজের ওয়ার্ডের ‘উত্তর মুসরত মদাতী মনিরাবাদ মাদ্রাসা হতে আ. সালামের বাড়ি’ পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের নামে বরাদ্দকৃত ৫ টন চাল এবং ‘কৈটারী ফজলের বাড়ি হতে প্রফুল্ল গণেশের বাড়ি’ পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের বরাদ্দকৃত ২ লাখ ২৫ হাজার টাকার নামমাত্র কাজ করে সিংহভাগ অর্থই তিনি আত্মসাৎ করেছেন।

কালীগঞ্জ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে খোজখবর নিয়ে জানা গেছে, গত কয়েক অর্থবছরে এই ইউপি সদস্য অসংখ্য উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সভাপতি (চেয়ারম্যান) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। যার সিংহভাগ প্রকল্প বাস্তবায়নেই ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী ওই ইউপি সদস্য ও তার সহযোগীরা পুলিশকে ম্যানেজ করে পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। এ ঘটনায় পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মফিজুলের অভিযোগ, চেয়ারম্যানের সরাসরি নির্দেশে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ এনে স্ত্রী ও সন্তানের সামনেই তাকে নির্মমভাবে প্রহার করেন ইউপি সদস্য শাহজাদা সেলিম। বর্তমানে তিনি কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত ইউপি সদস্য শাহজাদা সেলিমের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে মদাতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লব তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "আমি মারধর করতে নিষেধ করেছিলাম। আমি বলেছিলাম অপরাধী হলে তাকে পুলিশে সোপর্দ করতে। ব্যবসায়ী মফিজুল আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছেন, তা সম্পূর্ণ অসত্য।"

কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এইচ. এম. মাজহারুল রহমান জানান, "প্রয়োজন হলে বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্ত করা হবে। কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক জানান, আদালতের নির্দেশনার পর পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়