১৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩ - ০৩ আগস্ট, ২০২৬ - 03 August, 2026

রংপুরে খাল পুনঃখননের পর মাটি ধসে রান্নাঘর বিধ্বস্ত, ঝুঁকিতে পরিবারগুলো

11
2026-08-03 20:01:25

news-picture

আব্দুল্লাহ আল আমিনঃ

রংপুর জেলার কাউনিয়া উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের বিষ্যপুর এলাকায় খাল পুনঃখনন শেষে মাটি ধসে অন্তত ১০টি পরিবার সরাসরিসহ আরো অনেক পরিবার ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে একটি পরিবারের রান্নাঘর সম্পূর্ণ ধসে গেছে। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও কয়েকটি বসতঘর। যেকোনো সময় ধসে পড়ার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এমন আশঙ্কায় আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে কুর্শা ইউনিয়নের সিঙ্গামারি দোলায় ৪ দশমিক ৭ কিলোমিটার এবং হারাগাছ ইউনিয়নের ধুমনদীতে ৩ দশমিক ৭ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। গত ১২ মে রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর কুর্শা ইউনিয়নের বিষ্যপুর এলাকায় খালের পাড়ে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খালের পাড় ঘেঁষে গভীরভাবে মাটি কাটার পর সেই মাটি খালের কচুরিপানার ওপর ফেলে রাখা হয়। এতে খালের পাড় দুর্বল হয়ে পড়ে। সামান্য বৃষ্টিতেই মাটি ধসে বাড়িঘরের নিচের অংশ সরে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং একটি পরিবারের রান্নাঘর সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এক বাসিন্দা বলেন, “হঠাৎ করেই মাটি ধসে আমাদের রান্নাঘর ভেঙে গেছে। এখন পুরো পরিবার নিয়ে আতঙ্কে আছি। যেকোনো সময় মূল ঘরটিও ধসে পড়তে পারে।”

এলাকাবাসী কয়েকজন জানান, যে খাল পুনঃখনন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে, সেটি এর আগেও নানা কারণে আলোচনায় ছিল। শ্রমিক দিয়ে মাটি কাটার কথা থাকলেও, এক্সকাভেটর দিয়ে গভির করে মাটি দুই সাইটের কচুরি পানার উপর দেয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে তা ভেঙে পড়ছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের কাছ থেকে সরকারি কোষাগারে প্রায় ১ কোটি টাকা ফেরত নেওয়া হয়েছিল। এরপরও প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় তদারকি ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত না করায় এখন খালের পাড়ের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বলে অভিযোগ তাদের।

তাদের দাবি, খননকাজ শুরুর আগে ঝুঁকিপূর্ণ বসতবাড়ি চিহ্নিত করা হয়নি এবং পাড় সংরক্ষণে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে এখন একের পর এক বাড়ি ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। তারা দ্রুত ভাঙনরোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং প্রকল্পে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মেজবাহুর রহমান বলেন, “সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় যে ৯৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৩৭ টাকা ব্যয় হয়নি, তা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।”

এবিষয়ে কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, “অতি বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। এজন্যই কাজ শেষে নিয়ম অনুযায়ী বাকি অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা ও নতুন করে বরাদ্দ পেলে পরবর্তী অর্থবছরের শুকনো মৌসুমে খাল খননের বাকি কাজ সম্পন্ন করা হবে।”

সর্বশেষ

জনপ্রিয়