থানার ভবনেই নিরাপত্তাহীন পুলিশ, ছাদের পলেস্তার খসে আহত এএসআই
হাবিবুল হাসান হাবিব, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর ডিমলা থানার ভবনের ছাদের পলেস্তার খসে পড়ে এএসআই মুসলিম উদ্দিন আহত হয়েছেন। একই ঘটনায় পুলিশের সরকারি কাজে ব্যবহৃত একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার ভেঙে সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে গেছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত পৌনে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় ডিউটি অফিসারের কক্ষে আরও তিনজন সেবাগ্রহীতা ছিলেন। এ ঘটনায় ঝুঁকিপূর্ণ থানা ভবনে কর্মরত পুলিশ সদস্য ও সেবা নিতে আসা মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার সময় ডিউটি অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন এএসআই মুসলিম উদ্দিন। হঠাৎ কক্ষের ছাদের বড় একটি অংশের পলেস্তারা খুলে তার কাঁধের ওপর পড়ে। এতে তিনি আহত হন। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। ছাদ থেকে খসে পড়া পলেস্তার পড়ে থানার পুলিশি কার্যক্রমে ব্যবহৃত সরকারি একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার ভেঙে যায়।
আহত এএসআই মুসলিম উদ্দিন বলেন, “ডিউটি অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলাম এ সময় আমার টেবিলের উপর কক্ষের ছাদের পলেস্তার আচমকা খুলে পড়ে। এতে আমার কাঁধে আঘাত লাগে এবং থানার পুলিশি কার্যক্রমে ব্যবহৃত সরকারি কম্পিউটারটি ভেঙে যায়। থানা সূত্রে জানা গেছে, ডিমলা থানায় বর্তমানে মোট ৬২ জন পুলিশ সদস্য কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে ১০ জন এএসআই, ১০ জন এসআই এবং অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও তদন্ত ওসিসহ দুইজন কর্মকর্তা রয়েছেন। বাকি সদস্যরা কনস্টেবলসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মামলা তদন্ত, সাধারণ মানুষের সেবা ও থানার নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় এসব সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, ডিমলা থানার ভবনটির বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ । দোতলা ভবনের বিভিন্ন স্থান দিয়ে বৃষ্টির পানি চুইয়ে পড়ে। অনেক জায়গায় ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তার খুলে রড বেরিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও পলেস্তারা খসে খসে পড়ছে। ভবনের বিভিন্ন অংশে স্যাঁতসেঁতে ও ক্ষয়ের চিহ্নও রয়েছে। নিচতলায় এএসআইদের বসার অফিস কক্ষটির অবস্থাও নাজুক। বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে কক্ষের ভেতরে পানি পড়ে। বিভিন্ন স্থানে পলেস্তার খুলে পড়ছে। দেয়াল ও ছাদের বিভিন্ন অংশে ক্ষয়ের চিহ্ন স্পষ্ট। ফলে ওই কক্ষে বসে দায়িত্ব পালন করতেও পুলিশ সদস্যদের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে। শুধু অফিস কক্ষ নয়, ভবনটির দরজা-জানালা ও শৌচাগারের অবস্থাও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় পুলিশ সদস্যদের দৈনন্দিন জীবনযাপন ও দায়িত্ব পালনে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। থানায় কর্মরত ৬২ জন পুলিশ সদস্যের মধ্যে ২৫ থেকে ৩০ জন সদস্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে থানা ভবনটির পুলিশ ব্যারাকে রাত্রিযাপন করেন। বাকিদের অনেকেই বাইরে বাসা ভাড়া করে থাকেন। ব্যারাকে থাকা সদস্যদের প্রতিনিয়ত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে রাত কাটাতে হচ্ছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে পানি পড়া ও পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনায় তাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। এদিকে থানায় প্রতিদিন বিভিন্ন প্রয়োজনে সাধারণ মানুষও আসেন। ফলে ভবনের কোনো অংশ হঠাৎ ভেঙে পড়লে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষও দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন। ঘটনার সময় ডিউটি অফিসারের কক্ষে তিনজন সেবাগ্রহীতা উপস্থিত থাকায় দুর্ঘটনাটি আরও বড় আকার নিতে পারত বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন । সংশ্লিষ্টদের মতে, ডিমলা থানার বর্তমান ভবনটির অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে শুধু পলেস্তারা বা ছাদের সাময়িক সংস্কার করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। ছাদ চুইয়ে পানি পড়া, পলেস্তারা খসে পড়া, বিভিন্ন স্থানে রড বেরিয়ে যাওয়া, দরজা-জানালা ও শৌচাগার ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতিতে ভবনটির সামগ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাই সংস্কারের পরিবর্তে নতুন থানা ভবন নির্মাণ এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই নতুন ভবন নির্মাণের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া উচিত। ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শওকত আলী সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে পুলিশ সুপার মহোদয়কে অবহিত করেছি। তিনি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখছেন। আগামীকালই হয়তো মেরামতের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনা কখনো বলে-কয়ে আসে না। আমার আগে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তারা ইতোমধ্যে নতুন ভবনের চাহিদা পাঠিয়েছেন। অল্প সময়ের মধ্যে নতুন ভবন নির্মাণ হবে, এমনটাই প্রত্যাশা করছি।