৩১ ভাদ্র, ১৪৩৩ - ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ - 15 September, 2026

তিস্তায় ব্যাপক ভাঙন, আতঙ্কে লক্ষ্মিটারীর মানুষ ঘর বাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন অনেকে

218
2026-09-15 17:47:34

news-picture

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মিটারী ইউনিয়নের জয়রাম ওঝা চল্লিশ সাল গ্রামে তিস্তা নদীতে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনের তীব্রতায় ইতোমধ্যে কয়েকটি বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় সরিয়ে নিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে ভাঙনের কবলে পড়ছে ফসলি জমি। এতে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, তিস্তা নদীর পানি প্রবাহের সঙ্গে তীরবর্তী এলাকায় তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন থেকে বসতভিটা রক্ষায় স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে ঘরবাড়ি ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। অনেকের আবাদি জমি ইতোমধ্যে নদীর ভাঙনের মুখে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মতিয়ার রহমান বলেন, “নদী যেভাবে ভাঙছে, তাতে কখন যে বাড়িঘর নদীতে চলে যায় বলা যায় না। বাধ্য হয়ে ঘরসহ জিনিসপত্র সরিয়ে নিচ্ছি। আমাদের ফসলি জমিও ভেঙে যাচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও অনেক বাড়িঘর ও জমি নদীগর্ভে চলে যাবে।”

লক্ষ্মিটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লা আল হাদী বলেন, “জয়রাম ওঝা চল্লিশ সাল এলাকায় তিস্তার ভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। কয়েকটি পরিবার ইতোমধ্যে তাদের বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা ও পাইলিংয়ের কাজ শুরু করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. জেসমিন আক্তার বলেন, “তিস্তার ভাঙনের বিষয়টি জেলা প্রশাসক স্যার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করেছি। ভাঙনকবলিত এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে অল্প সময়ের মধ্যেই আরও বসতভিটা, ফসলি জমি ও স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা ও পাইলিংয়ের কাজ শুরু করে ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়