রাজারহাটে তিন কলেজের ১৭ পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল
প্রহলাদ মন্ডল সৈকত, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম):
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১৭ পরীক্ষার্থীর একজনও পাস করতে পারেননি। কলেজের অবকাঠামো আছে, শিক্ষক আছেন, শিক্ষার্থীও কাগজে-কলমে আছে; কিন্তু শ্রেণিকক্ষে নেই পাঠদানের পরিবেশ। কোথাও শিক্ষকের বেতন বন্ধ, কোথাও শিক্ষার্থীরা জীবিকার তাগিদে ঢাকায়, আবার অনেকে বিয়ের কারণে ঝরে পড়েছেন। এসব কারণে ওই তিনটি কলেজের ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে বলে দাবী করেছেন প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এমন ফলাফল শুধু পরীক্ষার্থীদের ব্যর্থতা নয়। বরং দীর্ঘদিনের পাঠদান সংকট, শিক্ষক সংকট ও তদারকির দুর্বলতা রয়েছে বলে অভিভাবকরা অভিযোগ করেন।
শনিবার(৩১অক্টোবর ) সকালে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ সালের ফলাফল অনুযায়ী, সিঙ্গারডাবরীহাট কলেজের ১০ জন, সিংগারডাবড়ীহাট বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ৬ জন এবং পাঙ্গারানী লক্ষ্মীপ্রিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন।
১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত সিংগারডাবড়ীহাট বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজে ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৫ সালেও কেউ পাস করেননি। প্রধান শিক্ষক মো. আরিফুল ইসলাম সরকার জানান, ধারাবাহিকভাবেই ফলাফল হতাশাজনক। নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক এক পরীক্ষার্থীর অভিযোগ, শিক্ষকেরা নিয়মিত ক্লাস না নেওয়ায় ইংরেজিতে ফেল করেছেন।
অন্যদিকে, ১৯৩৯ সালে প্রতিষ্ঠিত পাঙ্গারানী লক্ষ্মীপ্রিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে এবার ২৫ জন ভর্তি থাকলেও পরীক্ষায় অংশ নেন মাত্র একজন। অধ্যক্ষ তুহিন পাটোয়ারী জানান, অনেকে ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করছেন, অনেক ছাত্রীর বিয়ে হয়েছে। কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ২০ শিক্ষক বেতন না পাওয়ায় কলেজে আসতে চান না।
সিঙ্গারডাবরীহাট মহাবিদ্যালয়ের ১০ জন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা রবীন্দ্রনাথ রায়ের অভিযোগ, প্রায় ২৫ বছর ধরে শিক্ষকেরা বেতন পান না। জীবিকার তাগিদে অন্য কাজ করায় তাঁরা কলেজে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেন না।
রাজারহাট উপজেলা সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন তিন কলেজের সবাই ফেল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রশাসন যেভাবে ব্যবস্থা নেবে, সেভাবেই পদক্ষেপ নেয়া হবে।