জৈব সার ও ফেরোমন ফাঁদে বদলে যাচ্ছে রাজারহাটের কৃষিচিত্র, লাভবান হচ্ছে কৃষক
প্রহলাদ মন্ডল সৈকত, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম):
রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার কৃষকরা। জৈব সার ও জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে একদিকে যেমন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে উৎপাদন খরচ কমে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন প্রান্তিক চাষিরা।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সরেজমিনে উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের মহিধর ও খন্ডক্ষেত্র গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, কৃষক-কৃষাণীরা নিরাপদ পদ্ধতিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করছেন। লাভলী বেগম, মোসলেম, আবুল হোসেন, মিনতী রাণীসহ অনেক কৃষক এখন জৈব উপায়ে শিম, করলা, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শসাসহ নানা ধরনের সবজি উৎপাদন করছেন। একসময় এসব এলাকার অধিকাংশ জমিতে বছরে এক বা দুইটি ফসল হতো। বর্তমানে আধুনিক ও নিরাপদ কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারে একই জমিতে বছরে তিন থেকে চারটি ফসল উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। উপজেলার ২০ জন কৃষক প্রায় পাঁচ একর জমিতে নিরাপদ ফসল উৎপাদন করছেন। কৃষকরা রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের পরিবর্তে ট্রাইকো কম্পোস্ট জৈব সার, মালচিং পেপার, ফেরোমন ফাঁদ, হলুদ, সাদা ও নীল আঠালো ফাঁদসহ বিভিন্ন জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করছেন। প্রদর্শনীভিত্তিক কার্যক্রমের মাধ্যমে মডেল কৃষকদের সফলতা দেখে এলাকার অনেক কৃষক এখন নিজ উদ্যোগেও এসব প্রযুক্তি গ্রহণ করছেন। ফলে এলাকায় নিরাপদ ফসল উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
কৃষাণী লাভলী বেগম জানান, ২০ শতক জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে করলা চাষ করেছেন। জমিতে হলুদ ফাঁদ ও বিষটোপ ব্যবহারের কারণে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার প্রায় বন্ধ হয়েছে। এতে উৎপাদন খরচ কমেছে এবং ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারমূল্য অনুকূলে থাকলে ভালো লাভের আশা করছেন তিনি।
কৃষক আবুল হোসেন বলেন, “আগে জমিতে প্রচুর রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতাম। এখন জৈব সারের ব্যবহার বাড়িয়েছি। বিভিন্ন রঙের আঠালো ফাঁদ ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে ভালো ফল পাচ্ছি। প্রয়োজন হলে জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করছি। এতে খরচ কমেছে, রোগবালাইও কমেছে এবং ফলন বেড়েছে।”
কৃষক মোসলেম বলেন, “কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে আগে বছরে এক-দুইটি ফসলের পর অনেক সময় বেকার থাকতে হতো। এখন অধিকাংশ জমিতে তিন থেকে চারটি ফসল আবাদ হওয়ায় কর্মসংস্থান বেড়েছে। প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি পাওয়া যাচ্ছে। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের সময় শ্বাসকষ্ট ও চোখ জ্বালাপোড়ার সমস্যা হতো। জৈব উপকরণ ব্যবহারের ফলে সেই সমস্যাও কমেছে।”
রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুন্নাহার সাথী বলেন, “নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে উপজেলা কৃষি বিভাগ নিয়মিত কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিচ্ছে। জৈব সার ও জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন খরচ কমছে এবং কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। একই সঙ্গে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনও নিশ্চিত হচ্ছে।