কুড়িগ্রামে বইছে মৃদ্য সৈত প্রবাহ , বিপাকে জনজীবন
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের উপরদিয়ে শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীত নিবারণে অসহায় দুঃস্থ মানুষজন খঁড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণে চেষ্টা করছেন।অন্য দিকে মানুষের গৃহপালিত পশুদের শীত নিবারণে চটের বস্তা ব্যবহার করছেন।শীতের প্রভাবে চলতি মৌসুমে বোরো ধান রোপণ বিলম্ব হচ্ছে। কৃষি শ্রমিক সহ অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষের কাজের সংকট তৈরি হয়েছে।
কুড়িগ্রামে গত কয়েক সপ্তাহ থেকে শীত ও ঠান্ডায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। এতে করে সাধারণ মানুষরা পরেছেন বিপাকে। ঠান্ডার কারণে শিশু এবং বৃদ্ধরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শীত জনিত নানা রোগে ।
রাত থেকে সকাল পর্যন্ত শীতল বাতাসে বাড়ছে কাঁপুনি।গত কয়েকদিন থেকে সূর্যের দেখা মিলছে না। মাঝে মধ্যে সূর্য উকি দিলেও নেই কোন উত্তাপ। তারপর কিছুক্ষণ পরেই সূর্য হারিয়ে যায় মেঘের আড়ালে। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছে খেঁটে খাওয়া সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কষ্ট বেড়েছে চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের চর রাউলিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন,"খড়ের ঘরে থাকি বাতাস রাইতে ও দিনে হুহু করে ঢুকে, মোক কাবু করছে।বউ বাচ্চা নিয়ে খুব কষ্ট হইছে। হামরা গরীব মানুষ এতো ঠান্ডা হইলে বাচমো কেমনে।"
নাগেশ্বরী উপজেলার কালিগঞ্জ ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল হক পেশায় রিক্সা চালক। রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। নুরুল হক বলেন, সকাল বেলা রিক্সা নিয়ে বের হতে পারি না। যাত্রীও কম। ফলে আয় রোজগার নাই বললে চলে। শীত আসলে আমাদের মতো শ্রমজীবী মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কলেজ মোড়ের পান ব্যবসায়ী পঙ্গু দুলুমিয়া বলেন, ঠান্ডার কারণে পান বেচতে পারি না খুব অভাবে দিন কাটাচ্ছি। আমার তো দোকান ঘর নেই, খোলা যায়গায় দোকান। হিমশীতল বাতাস আর কুয়াশার কারণে দোকান চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের মিনহাজুল বলেন।এই ঠান্ডায় হামার চায়ের দোকানে কাজ করতে খুব কষ্ট লাগে। পানি নাড়ানাড়ি করা লাগে সব সময়। পানি তো সেই বরফের মতো ঠান্ডা। ঠান্ডায় হাত কাটি যায় অবস্থা।
এদিকে এবছর শীতের কারণে গত কয়েক দিন থেকে , সর্দি, কাশি, নিউমেনিয়া ,আমাশয় ও ডাইরিয়াজনিত রোগীর সংখ্যা হাসপাতালে বেড়ে চলছে।
এবিষয়ে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপ্নন কুমার বিশ্বাস বলেন, জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলছে।
কিছু রোগী হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন।আবার কিছু কিছু রোগী হাসপাতালের ভর্তি হচ্ছেন। গুরুত্বের সাথে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, বৃহস্পতিবার সকালে জেলায় সবনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।বাতাসের আর্দ্রতা ৯৭ ভাগ।
কুড়িগ্রাম জেলা শাখার ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকতা আব্দুল মতিন জানান ৯ টি উপজেলায় শীতবস্ত্র বিতরণ চলমান রয়েছে।