রংপুরে মাদকের নামে ১শ’ ৪৪ বোতল রেক্টিফাইড স্পিরিটসহ এক নারী গ্রেফতার
রংপুরে বিষাক্ত রেক্টিফাইড স্পিরিট সবনে ৮ জনের মৃত্যুর পর
নিজস্ব প্রতিবেদক:
এক সপ্তাহ আগে রংপুর জেলার শ্যামপুর এলাকায় মাদকের নামে বিষাক্ত রেক্টিফইড স্পিরিট পান করে ৮ ব্যক্তির মৃত্যুর পর এবারে ১শ’ ৪৪ বোতল ‘রেক্টিফইড স্পিরিট’ একটি বড় চালানসহ গ্রেফতার হলেন এক নারী। ওই নারী ৮ জনের মৃত্যুর মাদক মামলায় মামলার আসামি পুলিশের হাতে গ্রেফতার জয়নুল আবেদীনের স্ত্রী ফরিদা আখতার(৫৫)।
জয়নুল আবেদীন ১২ জানুয়ারি’২৬ গ্রেফতার হওয়ার একদিন পরে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার হেফাজতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত মারা যায়।
রেক্টিফাইড স্পিরিটের নামে আটক মাদকের চালান আটক ও গ্রেফতারকৃত নারীর বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন রংপুর জেলা মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু জাফর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রংপুরে সম্প্রতি বিষাক্ত রেক্টিফাইড স্পিরিট সেবন করে রংপুর সদর মেট্রোপলিটন থানা, বদরগঞ্জ থানা ও রংপুর হাজিরহাট মেট্রোপলিটন থানায় গত ১০ জানুয়ারি থেকে ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
এর পর থেকে তারা এর উৎসের সন্ধানে গোয়েন্দা নজরদারী শুরু করলে তারা নিশ্চিত হন যে রেক্টিফাইড স্পিরিটের নামে মাদকের চালানটি গত ১১ জানুয়ারিতে ঢাকার গাজীপুর থেকে জয়নুল আবেদীনের নামে রংপুরে বুকিং দেয়া হয়েছিল। সেখানে যে মোবাইল নাম্বার ছিল সেটি রেজিষ্ট্রেন করা ছিল জয়নুল আবেদীনের স্ত্রীর নামে। তারা বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরে প্রথমে জয়নুল আবেদীনের স্ত্রীকে আটক করে। এরপর তাকে নিয়ে তারা ‘রেক্টিফাইড স্পিরিটের নামে আটক মাদকের চালান’টি নিতে আসেন সেখানে ১শ’৪৪ ১শ’ মিলিলিটার ‘রেক্টিফাইড স্পিরিট’ এর চালান উদ্ধারের পরে ওই নারীকে গ্রেফতার করে।
উল্লেখ্য গত ১০ জানুয়ারি’২৬ মাদক ব্যবসায়ী জয়নুল আবেদীনের কাছ থেকে ‘বিষাক্ত রেক্টিফইড স্পিরিট’ ক্রয় করে ১১জন মাদক সেবনকারী সেবন করেন। এর পরে প্রথমে ১১ জানুয়ারি রাতে ৩জন মারা যান, বদরগঞ্জ গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর এলাকার আমিরুল ইসলামের ছেলে আলমগীর হোসেন (৪০), রফিকুল ইসলামের ছেলে সোহেল মিয়া (৩২) ও রংপুর সদর থানার শ্যামপুর এলাকার সায়দার রহমান জিন্দার আলী(৩০)। এঘটনার সাথে জড়িত জয়নুল আবেদীন (৩৫) ওই দিন গ্রেফতার করে। এ সময় তার বাড়ি থেকে পুলিশ ১০ বতল রেক্টিফাইড স্পিরিট উদ্ধার করেছে। সে কারাগার হেফাজতে ১৪ তারিখ মারা যায়।
ওই দিন আরও মারা যায় রংপুর সদর থানার শ্যামপুর কলেজ পাড়ার রাশেদুল হক(৪০) ও বদরগঞ্জ থানার ইসামত বসন্তপুর গ্রামের মালেক মিয়া(৪৫)।
তার আগে গত ১০ জানুয়ারি শুক্রবার রংপুর সদরের নজিরেরহাট এলাকার রফিক হোমিও হল থেকে রেক্টিফাইড স্পিরিট ক্রয় করে পান করেন চন্দপাট ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের ওলিয়ার রহমান (৪০) ও
হাজীরহাট বালাবাজারে মৃত অনিল চন্দ্র রায়ের ছেলে মানিক চন্দ্র রায়(৬২)।