সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশের পর জাপা প্রার্থী ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলীর সংবাদ সম্মেলন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রংপুর–১ আসনের জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলীর নির্বাচন কার্যক্রমে সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশের পর সংবাদ সম্মেলন করে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি। মঙ্গলবার রাতে গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারি ইউনিয়নের আনুর বাজার এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবে তাকে নির্বাচন থেকে সরানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলী বলেন, গত ১ জানুয়ারি যাচাই-বাছাই শেষে রংপুর জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা তার হলফনামায় যুক্তরাজ্যসংক্রান্ত একটি বক্তব্য উল্লেখ করে মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। পরে ৫ জানুয়ারি তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন।
তিনি জানান, ১০ জানুয়ারি আপিল শুনানিকালে রংপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রতিনিধি আব্দুল হান্নান তার বিরুদ্ধে কয়েকটি ভুয়া কোম্পানির কাগজপত্র দাখিল করেন। ওই কাগজপত্রের ভিত্তিতেই তার মনোনয়নপত্র পুনরায় বাতিল করা হয়।
ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলী আরও বলেন, ১৫ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন স্বপ্রণোদিত (সুয়ো মোটো) হয়ে বিষয়টি গ্রহণ করে। এরপর ১৭ জানুয়ারি পুনরায় শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে আব্দুল হান্নানের দাখিল করা কাগজপত্র সঠিক ও গ্রহণযোগ্য নয় বলে প্রতীয়মান হওয়ায় নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে।
মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর ২১ জানুয়ারি বিএনপির প্রার্থী মোকাররম হোসেন সুজন হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন (রিট নম্বর–১০৫১/২৬)। পরদিন ২২ জানুয়ারি বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ নির্বাচন কমিশনের আদেশের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন এবং নির্বাচন কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দেন।
ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলী জানান, এরপর তিনি ঢাকায় চেম্বার কোর্টে আপিল করেন। চেম্বার কোর্ট গত ২৬ জানুয়ারি মামলাটি পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট ফুল কোর্টে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেন। ২৭ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সমন্বিত বেঞ্চ মামলাটি খারিজ করে দিলে হাইকোর্টের আগের আদেশ বহাল থাকে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তার মনোনয়ন কখনোই দ্বৈত নাগরিকত্বের কোনো বিষয় নিয়ে বাতিল হয়নি। আদালত বা নির্বাচন কমিশনের কোনো পর্যায়েই দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে কোনো আলোচনা বা আপত্তি ওঠেনি। অথচ কিছু গণমাধ্যমে এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়া উচিত জনগণের রায়ের মাধ্যমে, আদালত বা প্রশাসনিক কৌশলের মাধ্যমে নয়। গঙ্গাচড়ার মানুষের উন্নয়ন ও পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়েই তিনি নির্বাচনে নেমেছিলেন এবং ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলী। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী মোকাররম হোসেন সুজন বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। কেউ যদি কিছু বলে থাকে, সেটা তার একান্ত বিষয়। শুনেছি, তিনি নাকি আগে উপজেলা নির্বাচন করার জন্য আমাকে ৫০ লাখ টাকা দিতে চেয়েছিলেন, পরে ২০ লাখ টাকা দিয়েছেন—সে হিসাবে আমার কাছে তার আরও ৩০ লাখ টাকা পাওনা আছে। নির্বাচনের মাঠে কেউ যদি কোনো প্রার্থীর ওপর খুশি হয়ে টাকা দেয়, সেটাও ভাগ্যের ব্যাপার। তবে আমি তার বিষয়ে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য করব না। নিঃসন্দেহে তিনি একজন ভালো উদাহরণের মানুষ।’