১১ ফাল্গুন, ১৪৩২ - ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ - 23 February, 2026

নীলফামারী-৪ আসনের ত্রি-মূখী সমীকরণ

3 weeks ago
195


বিপিএম জয়,কিশোরগঞ্জ:

 ১৯৭০ সালের নির্বাচন বাঙালি জাতির ইতিহাসে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলির মধ্যে অন্যতম। এ ভূখণ্ডের মানুষ নির্বাচনটির মধ্য দিয়ে তাদের দুই যুগের আন্দোলন-লড়াই-সংগ্রামের যেসব দাবিদাওয়া তার সবটাই বৈধ হয়ে যায়। এ বৈধতা কেবল সাংবিধানিকভাবে নয় বরং নৈতিকতা ও ন্যায্যতার দিক থেকেও। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে নির্বাচনী উত্তাপ ততই বাড়ছে। নীলফমারী-৪ আসনে কিশোরগঞ্জ-সৈয়দপুর জাতীয় পার্টির ভোটের মাঠের আধিপত্য বিএনপি ভেঙ্গে দিয়েছিল। কিন্তু আসনটিতে দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীরা এবার লড়াইয়ে পরস্পর মুখোমুখি  নির্বাচন করায় ভোটের মাঠে দেখা দিয়েছে নানা সমীকরণ। তবে বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলেছে নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী। ফলে জামায়াত রয়েছে এখন বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে।

স্থানীয় অভিজ্ঞ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন মরহুম রাষ্ট্রপতি এরশাদ জেলে থাকার সময় আঞ্চলিক টানে জাতীয় পার্টির এ আসনে  একটা  ভোট ব্যাংক তৈরি করেছিল। ১৯৭০ সালে নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে আজাহারুল ইসলাম, ১৯৭৩ সালে নৌকা প্রতীকে  নির্বাচনে জোনাব আলী ১৯৭৯ সালে ধানের শীষ প্রতীকে মজিবর রহমান,৮২- ৮৬  সালের  নির্বাচনে রওশন আলী দুলুু মিয়া, ১৯৯১ সালে ন্যাপ মনোনীত এ কে এম হাফিজ উদ্দিন, ১৯৯৬ সালে লাঙ্গল প্রতীকে ড. আসাদুর রহমান (ভেলু), ২০০১ সালে বিএনপির প্রার্থী

মরহুম আমজাদ হোসেন সরকার  (ভজে) ও ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগের প্রার্থী মরহুম কর্নেল মারুফ সাকলাইন  জয় লাভ করে। ২০১৩ সালে জাতীয় পাটি মনোনীত  শওকত চৌধুরী,২০১৮ সালে জাতীয় পাটি মনোনীত  আদেলুর রহমান আদেল। জামায়াতও ঘামঝড়া পরিশ্রম করে স্থায়ী একটি ভোট ব্যাংক তৈরি করে বিএনপিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। জামায়াত ভোটারদের আস্থা নিয়ে নতুন ইতিহাস রচনা করতে জোটবদ্ধ প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে। বিএনপির  বিদ্রোহী প্রার্থীর হিসাব কাজে লাগিয়ে কৌশলে কাজ করে যাচ্ছে দলটির নেতাকর্মীরা। তবে শেষ পর্যন্ত সব হিসাব নিকাশ ফেলে চূড়ান্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বিএনপি,জামায়াত ও জাতীয় পার্টির প্রাথীর মধ্যেই। এই লড়াইয়ে কোন দল জয়ী হবে তা নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক দল তিনটির ভোটারদের মাঝে নিজ দলের আদর্শ ও প্রার্থীদের গ্রহনযোগ্যতার উপর।

এদিকে জাতীয় পার্টি আসনটি পুনরুদ্ধারের জন্য জোড় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এজন্য ২০২৪ সালে ডামি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে  বিপুল ভোটে জয়ী হওয়া  সাবেক এমপি ও শিল্পপতিকে নির্বাচনে  প্রার্থী করেছে দলটি। ওই প্রার্থী মাঠে নেমে  ঝিমিয়ে পড়া নেতাকর্মীকে চাঙ্গা করে ভোটের মাঠে ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু কর্মিদের জুলাই বিপ্লব নিয়ে ভোটারের নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিয়ে ভোটারদের মন জয় করতে পারলে ভোটের মাঠের সমীকরন পাল্টে গিয়ে ত্রি-মুখী লড়াইয়ের সম্ভবনা তৈরি হতে পারে বলে মত দিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

নীলফামারী-৪ আসনটি কিশোরগঞ্জ উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও সৈয়দপুর উপজেলার ১টি পৌরসভাসহ ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। আসটিতে মনোনয়ন বৈধতা পেয়ে ৯ জন প্রার্থী নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছে। এর মধ্যে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম, লাঙ্গল প্রতীকে সিদ্দিকুল আলম, হাত পাখা প্রতীকে শহিদুল ইসলাম, ফুটবল প্রতীকে রিয়াদ আরফান সরকার, মটরসাইকেল প্রতীকে এসএম মামুনুর রশিদ, ঘোড়া প্রতীকে জোবায়দুর রহমান হীরা , কাঁচি প্রতীকে মাইদুল ইসলাম, কাঁঠাল প্রতীকে মির্জা মোঃ শওকত আকবর ( রওশন)  প্রতিদ্বন্দীতা করছেন।

নীলফামারী-৪ আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫১ হাজার ৮১৪জন। বর্তমানে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২৬ হাজার ৭২৮ জন। অপরদিকে নারী ভোটার ২ লাখ ২৫ হাজার ৮১ জন।  সৈয়দপুরে প্রায় আড়াই লাখ  ভোটারের মধ্যে  হার - জিতে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায় সৈয়দপুর  শহরের  বসবাস রত ৬০ হাজারের বেশী অবাঙালী ভোটার । তাছাড়া  সনাতন ধর্মাবলম্বী ও নতুন  ভোটাররা জয়-পরাজয়ের মুল ফ্যাক্টর। অতীতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পাটির  এম পি হলেও পক্ষে - বিপক্ষে গেলেও এখন সেই ভোটের ভাগ বসেছে।

 

 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

// Set maxWidth