১১ ফাল্গুন, ১৪৩২ - ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ - 23 February, 2026

গঙ্গাচড়ায় তিস্তার চরে ভেঙে পড়া সড়ক, ঝুঁকিতে তিন ভোটকেন্দ্র

3 weeks ago
219


নির্মল রায়ঃ

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তার চরাঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের প্রায় ১০০ ফুট অংশ ভেঙে পড়ায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনটি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সড়কটি এসব কেন্দ্রে যাওয়ার একমাত্র যোগাযোগ পথ হওয়ায় স্থানীয়দের দৈনন্দিন চলাচলের পাশাপাশি ভোটের দিন প্রশাসনের যানবাহন চলাচল নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, গঙ্গাচড়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও রংপুর সিটি করপোরেশনের ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত রংপুর-১ সংসদীয় আসনে মোট ১৩৯টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে গঙ্গাচড়া উপজেলার ৯২টি ভোটকেন্দ্রের ৭টি অবস্থিত দুর্গম চরাঞ্চলে।

ঝুঁকিতে থাকা তিনটি ভোটকেন্দ্র হলো—কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনা চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মটুকপুর চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং চর মটুকপুর বালাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৬ হাজার ৫৮৫ জন। কেন্দ্রগুলো তিস্তা নদীর ওপারে লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত।

সরেজমিনে দেখা যায়, রংপুর-লালমনিরহাট সড়কের মিলনবাজার থেকে পশ্চিমে বিনবিনা এলাকার কাঁচা সড়কটি গত বছরের বন্যায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে প্রায় ১০০ ফুট অংশ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। বর্তমানে শুকনো মৌসুমে স্থানীয়রা পায়ে হেঁটে চলাচল করতে পারলেও যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

গঙ্গাচড়া উপজেলা সদর থেকে এসব কেন্দ্রে যেতে হলে মহিপুর তিস্তা সেতু হয়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হয়। বিকল্প হিসেবে লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ উপজেলা হয়ে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দুর্গম এই তিনটি ভোটকেন্দ্রের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ভোটের দিন প্রশাসনের যানবাহন দ্রুত কেন্দ্রে পৌঁছাতে না পারলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এলাকাবাসী জানান, বছরের পর বছর ধরে সড়কটি সংস্কার করা হয় না। বন্যার সময় নিজেদের উদ্যোগে চাঁদা তুলে মেরামত করলেও পানির তোড়ে তা আবার ভেঙে যায়। এতে ইউনিয়নের দুটি ওয়ার্ডের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। কৃষিপণ্য পরিবহনে সংকটের কারণে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা সেবা নিতে রোগী আনা-নেওয়াতেও মারাত্মক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মনোয়ার হোসেন বলেন, সড়কটি সংস্কারের জন্য অনেক আগেই উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সড়কটি বিচ্ছিন্ন থাকায় কালিগঞ্জ হয়ে অন্তত ৩০ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন আক্তার বলেন, সড়ক সংস্কারের আবেদন পেয়েছি। তবে নির্বাচনের আগে প্রকল্প গ্রহণে কিছু জটিলতা ছিল। আমি নিজেও কালিগঞ্জ হয়ে ওই ভোটকেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

// Set maxWidth