কুড়ানো আলুতে শিশু-কিশোরের খাতা-কলম মিঠে পরিবারের সবজির চাহিদা
তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
মাঠে মাঠে চলছে আলু তোলার কাজ। সেই আলু কুড়াতে আলুর জমিতে শিশু-কিশোরের টল নেমেছে। রমজান মাসে স্কুল বন্ধ থাকায় তারাদল বেঁধে খেলাচ্ছলে কোঁদাল, বাইষ, পাসুন, লোহার রড দিয়ে মাটি খুড়ে আলু সংগ্রহ করছেন উচ্ছ্বাসভরা মনে। কুয়াশা আর রোদ মাখা ঝলমলে মাঠে, হাসি আর কোলাহল মুখর পরিবেশ। সব মিলে যেন শৈশবের এক মৌসুমি উৎসব মনে হচ্ছে তাদের কাছে। এ যেন আবার ফিরে এসেছে শৈশবরের চিরচেনা আনন্দ। রংপুরের তারাগঞ্জে কয়েক সপ্তাহ ধরে মাঠে মাঠে আলু তোলঅর কাজ চলছে। ক্ষেত থেকে আলু চাষিদের আলু তুলে নেওয়ার পর এসব মাঠে মাঠে পরে থাকা আলু কুড়াতে শিশু-কিশোরের ঢল নেমেছে। শিশু-কিশোরদের মাঝে এখন আলু কুড়ানোর ধুম পড়েছে। ঝাঁক বেঁধে শিশু-কিশোরদের আলু কুড়ানো এই প্রাণবন্ত দৃশ্য গ্রামীণ জীবনে বাড়তি রঙ যোগ করেছে। মূলত যাদের জমি-জমা নেই এমন জনগোষ্ঠীর শিশু-কিশোর ও নারী-পুরুষ প্রতিবারের ন্যায় এবারো তারা ফসলশুন্য মাঠ থেকে মাটির নিচে চাপাপড়া আলু কোদাল, পাশুন, বাইষ ও লোহার রড দিয়ে খুড়িয়ে আলু সংগ্রহ করে এনে সংসারে বাড়তি আয়ের জোগান দিচ্ছে। মাঠে চলে শিশু-কিশোরদের মাঝে তুমল প্রতিযোগীতা। কার থেকে কে বেশি আলু কুড়িয়ে ব্যাগে ভরতে পারে। দিনভর এভাবে তারা আলু সংগ্রহ করে কেউবা ১০-১৫ কেজি আলু নিয়ে বাড়িতে ফিরছে। এতে দৈনন্দিন ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বাড়তি আয় করে কেউবা কিনছেন খাতা-কলম. কেউ কিনছেন বই। আবার অনেকেই সংগ্রহের আলু একাত্রে বিক্রি করে খাচ্ছেন ভুরকাভাত (পিকনিক)। শুধু তাই নয়, আবার অনেকে সারা বছর পরিবারের সবজির চাহিদা মেটাতে অভাবের কথা চিন্তা করে জীবিকা নির্বাহে এ আলু শুকিয়ে সংরক্ষন করচেন হাঁড়ি-পাতিল, মাচা পদ্ধতিসহ চকি-খাটের নিচে পাতানো বালুতে। উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের শ্যামগঞ্জ গ্রামের মাঠে আলু কুড়ানো শিশু রহমত (১৩), মাহিয়া (১১), আলো রানী (১৩), শেফালি (১০) বলেন, রমজান মাসে স্কুল বন্ধ তাই এর ফাঁকে সবাই মিলে আলু কুড়াতে এসেছি। মাঠে আলু কুড়ানোর মজাই আলাদা। এতে আনন্দও হয়, আলু নিয়ে বাড়িতে গেলে মা-বাবা খুশি হয়। ইকরচালি ইউনিয়নের বাছুরবান্দা গ্রামের মাঠে আলু সংগ্রহ করতে আসা হামিদুল (১২), ময়না (৯), খালেদা (১২), রহিমা (৮), রাজ্জাক (৯), আলতাফ (৯) বলেন, মা-বাবা অনেক সময় খাতা-কলম কিনে দিতে পারেন না আলু কুড়িয়ে বাড়িতেও খাই আবার বিক্রি করে খাতা-কলম কিনি। একই ইউনিয়নের জগদীসপুর গ্রামের মাঠে আলু কুড়াতে ব্যস্ত আরিফুল ইসলাম (১১) বলেন, আলু কুড়াতে যেমন আনন্দ আছে তেমন কষ্টও আছে। জমি আওলা আলু তুলি বাড়িতে না নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হয়। ওমরা বকাঝকাও করেন। তখন খারাব লাগে। আলু চাষি মোবারক হোসেন বলেন, খেত থেকে আলু তোলা শেষ। এখন ভুট্টার জন্য জমি তৈরী করছেন। এ সুযোগে গ্রামের শিশুরা মাটির নিচে চাপা থাকা আলু বের কওে নেয়। এতে তাদেও কোন ক্ষতি নেই। তারা সেসব অঅলু বিক্রি করে পড়ালেখার খরচের পাশাপাশি টুকিটাকি প্রয়োজন মিটাবে।