২১ ফাল্গুন, ১৪৩২ - ০৬ মার্চ, ২০২৬ - 06 March, 2026

পাটগ্রাম পৌরসভায় অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতায় সেবার ধস

1 hour ago
18


পাটগ্রাম(লালমনিরহাট)প্রতিনিধিঃ

লালমনিরহাটের সীমান্তবর্তী প্রথম শ্রেণির পৌরসভা পাটগ্রাম বর্তমানে বহুমাত্রিক সংকটে জর্জরিত। প্রশাসনিক শূন্যতা, আর্থিক অচলাবস্থা ও দায়িত্বের অতিরিক্ত চাপ—সব মিলিয়ে পৌরসভার স্বাভাবিক কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

পাটগ্রাম নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) একই সঙ্গে সহকারী ভূমি কমিশনার, পৌর প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। যানাযায় আব্দুল ওয়াজেদ সহকারী কমিশনার হিসেবে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ এ সর্বশেষ দায়িত্ব পালন করেন।  একজন কর্মকর্তার ওপর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকায় স্বাভাবিকভাবেই সমন্বয় ও তদারকিতে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। ফলে পৌরসভার দৈনন্দিন সেবামূলক কাজ যেমন বর্জ্য অপসারণ, সড়ক সংস্কার, ড্রেন পরিষ্কার ও মশক নিধন কার্যক্রম যথাসময়ে সম্পন্ন হচ্ছে না।

পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে জমে আছে ময়লার স্তূপ। অনেক সড়কে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা দেখা দিবে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। যার ফলে আগামী বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারনে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছাতে পারে।

অর্থনৈতিক সংকটের কারণে পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রায় ১৫ মাসের  বেতন বকেয়া বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে কর্মীদের মাঝে হতাশা ও অনীহা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব সরাসরি সেবার ওপর পড়ছে।

পৌরসভার বর্তমান দুরবস্থার পেছনে বিদায়ী আওয়ামীলীগ দলীয় মেয়র রাসেদুল ইসলাম সুইট ও মেয়র শমসের আলী-এর সময়কার বিভিন্ন অনিয়ম ও আর্থিক অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন অনেকে। স্থানীয়দের দাবি, তার দায়িত্বকালীন সময়ে পরিকল্পনাহীন প্রকল্প গ্রহণ, আর্থিক স্বচ্ছতার অভাব ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে পৌরসভার ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে পড়ে। যার ফল এখন ভোগ করতে হচ্ছে পৌরবাসীকে।

পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সবগুলো গাড়ি বিকল হওয়ার ফলে কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছে না বলে জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ক রাজু আহমেদ।

সচেতন মহলের মতে, একজন কর্মকর্তার ওপর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করলে কার্যকর সেবা নিশ্চিত করা কঠিন। তাই দ্রুত পৃথক প্রশাসক নিয়োগ, বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং জরুরি ভিত্তিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামো সংস্কারে বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এবিষয়ে পাটগ্রাম পৌর প্রশাসক বলেন, ৪ টা দপ্তরের অফিস একই সময়ে শুরু হয়। তাই বিভিন্নভাবে সমন্বয় করে কাজ করতে হয়। তিনি একই সাথে বিভিন্ন দপ্তর ম্যানেজ করতে গিয়ে বলেন স্বাভাবিক কাজে কিছুটা ব্যঘাত হচ্ছে, বিশেষ করে সহকারী কমিশনারের কাজ অত্যন্ত সুক্ষ্ণ, প্রত্যেকটা লাইন এবং দাগ- খতিয়ান পড়ে পড়ে দেখতে হয়। তাই চাইলেও দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব  না।

পৌরসভার জন্মলগ্ন থেকেই কিছু কর্মকর্তা এখানেই নিয়োগ প্রাপ্ত, যাদের একগুয়েমির কারণে কাজে অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পাটগ্রাম পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা লাজু হাসান জানান, বিভিন্ন কর্মকর্তা দীর্ঘদিন একই জায়গায় কর্মরত থাকার কারণে বিভিন্ন অনিয়মের সাথে জড়িত তাই পুরাতনদের কে বদলি করা দরকার।

পৌরবাসীর প্রত্যাশা—রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতার অবসান ঘটিয়ে পাটগ্রাম পৌরসভাকে আবারও একটি কার্যকর ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করবে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

// Set maxWidth