৬ বৈশাখ, ১৪৩৩ - ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ - 19 April, 2026

রাজারহাটে দু’টি রেলস্টেশনের জরাজীর্ণ ভবন, দুর্গন্ধ আর ঝুঁকির মাঝেই চলছে যাত্রীসেবা

6 hours ago
43


প্রহলাদ মন্ডল সৈকত, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম):  

ষাটের দশকে নির্মিত রাজারহাটে দু’টি রেলস্টেশন আজ অবহেলা আর অনিয়মের ভারে ন্যুব্জ। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। রাজারহাট ও সিঙ্গেরডাবরীহাট রেল স্টেশনে প্ল্যাটফর্ম না থাকায় গর্ভবর্তী মা ও শিশু এবং বৃদ্ধরা ট্রেনে উঠা-নামা করতে দূর্ঘটনার শিকার হন ।

রবিবার(১৯এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, একই উপজেলায় অবস্থিত রাজারহাট ও সিঙ্গেরডাবরীহাট স্টেশন ভবনের দেয়ালে ফাটল ধরেছে, ভেতরের ঢালাই বিভিন্ন স্থানে ধসে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভবনটি এখন প্রায় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে উঠলেও ঝুঁকি নিয়েই চলছে যাত্রীসেবা।

স্টেশন চত্বরের দুই পাশে নিচু জায়গায় জমে থাকা নোংরা পানি যেন স্থায়ী জলাবদ্ধতায় পরিণত হয়েছে। এসব পানিতে জন্মেছে কচু ও কচুরিপানা। আশপাশের বাজারের ময়লা-আবর্জনা সেখানে জমে তৈরি করেছে তীব্র দুর্গন্ধ। যা যাত্রী ও পথচারীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত বিশ্রামাগার ও শৌচাগার। এছাড়া স্টেশন দু’টিতে কোনো প্ল্যাটফর্ম না থাকায় ট্রেনে ওঠানামার সময় বাড়ছে দূর্ঘটনা।

রংপুরগামী যাত্রী এনামুল হক(৪৫) বলেন, স্টেশনের চারপাশে এত দুর্গন্ধ যে, ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করাটাই কষ্টকর হয়ে যায়।

অপর এক মহিলা যাত্রী(৪০) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাচ্চা নিয়ে এখানে দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন। এত দুর্গন্ধে শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দা হাতেম আলী(৬৫) অভিযোগ করেন, নিচু জায়গা ভরাট না থাকায় আশপাশের কচুবাগান ও বাজারের সব ময়লা এখানে ফেলা হয়। শৌচাগার না থাকায় যাত্রীরা আশপাশের বাড়িতে গিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন।

স্টেশন সংলগ্ন ব্যবসায়ী শাহজাহান আলী জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্টেশনের এই বেহাল অবস্থা। দূর্গন্ধে মানুষ পাশ দিয়ে হাঁটতেও পারে না।

সিঙ্গেরডাবরীহাট স্টেশনের পাশের বাসিন্দা আশা মিয়া(৩২) বলেন, ছোট বেলা থেকে দেখছি, স্টেশনটির কোন উন্নতি নেই। নিচু হওয়ায় প্রায় প্রায় এখানে যাত্রী উঠতে গিয়ে পড়ে যায়।

এ বিষয়ে স্টেশন মাস্টার সুমন বলেন, ময়লা-আর্বজনার দুর্গন্ধে আমরাও অতিষ্ঠ। পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করা হলেও স্থানীয়দের অসচেতনতার কারণে রাতে এখানে ময়লা ফেলা হয়। মসজিদের অজুখানা ও মাছ বাজারের ময়লা পানিও এসে জমা হয়।

তিনি আরও বলেন, স্টেশন ভবনের সংস্কারের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে দরজা-জানালার কাজ শুরু হবে, এরপর মূল ভবনের সংস্কার করা হবে। প্ল্যাটফর্ম নির্মাণের বিষয়টিও পরিকল্পনায় রয়েছে।

একসময় এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত রাজারহাট রেলস্টেশন এখন যেন অবহেলা ও দুর্ভোগের স্টেশন। দ্রুত সংস্কার ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত না হলে এটি জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করেন সচেতন মহল।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

// Set maxWidth