২১ শ্রাবণ, ১৪৩৩ - ০৫ আগস্ট, ২০২৬ - 05 August, 2026

এক বছরও টিকল না বাঁশের পাইলিং, নদীগর্ভে যাচ্ছে সেতু রক্ষা বাঁধ

230
2026-06-21 17:02:58

news-picture

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে আবারও ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। গত বছর নদীগর্ভে বিলীন হওয়া বাঁধের অংশ রক্ষায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে যে বাঁশের পাইলিং নির্মাণ করেছিল, তা এবারের প্রথম বন্যার পানির চাপেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে নতুন করে প্রায় ২০ মিটার বাঁধ  নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) ডালিয়া পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যারাজ কর্তৃপক্ষ তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দিলে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। পরে পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলে মহিপুর সেতু রক্ষা বাঁধের উত্তর-পশ্চিম অংশে ভাঙন শুরু হয়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু এবং রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছর দ্বিতীয় তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধের প্রায় ১০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরপর এলজিইডির উদ্যোগে বাঁশের পাইলিং নির্মাণ করা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বর্তমানে ভাঙনস্থলে প্রায় ৩৫ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

ভাঙনের কারণে রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়কের পাশাপাশি লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের প্রায় ১ হাজার ২০০ পরিবার হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষ চলাচল করেন। সেতু বা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুরো অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।

বাঁধসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা রিপন ও কাইয়ুম বলেন, “বছরের প্রথম পানিতেই ভাঙন শুরু হয়েছে। আমরা সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকি।”

স্থানীয় ব্যবসায়ী শাহনাজ বেগম বলেন, “এই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন শহরে যাতায়াত করি। সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।”

শিক্ষার্থী বাদশা মিয়া বলেন, “কোচিংয়ে যাওয়ার সময় দেখি বাঁধের অংশ ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে। বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক।”

কৃষক খোরশেদ আলী অভিযোগ করে বলেন, “বাঁধ ভেঙে গেলে শুধু সেতু নয়, আমাদের আবাদি জমিও নদীগর্ভে বিলীন হবে। এলজিইডি কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।”

লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, “বাঁশের পাইলিং নির্মাণের সময়ই আমরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলাম এটি টিকবে না। সরকারের ১৪ লাখ টাকা ব্যয় হলেও প্রথম পানির চাপেই পাইলিং ভেঙে গেছে। এখন আবার বাঁধেও ভাঙন দেখা দিয়েছে।”

এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুল রহমান বলেন, “গত বছর বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শ অনুযায়ী বাঁশের পাইলিং নির্মাণ করা হয়েছিল। নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, দ্বিতীয় তিস্তা সেতু, আঞ্চলিক সড়ক এবং আশপাশের জনপদ রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে টেকসই নদীশাসন ও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়