১৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ - ২৮ মে, ২০২৪ - 28 May, 2024
amader protidin

দুবাই পুলিশের হাতে আরাভের আটকের গুঞ্জন

আমাদের প্রতিদিন
1 year ago
547


ঢাকা অফিস:

বাংলাদেশের এক পুলিশ কর্মকর্তার হত্যার সঙ্গে জড়িত আরব আমিরাতের স্বর্ণ ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম ওরফে আরাভ খানকে আটক করেছে বলে শোনা যাচ্ছে। এর আগে ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে ‘রেড নোটিশ’ জারি করে। রেড নোটিশ জারির একদিনের মাথায় গত রাতে তাকে আটক করা হয়েছে বলে একটি সূত্র সোনালীনিউজকে নিশ্চিত করেছে।

আটকের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ভাবে কেউ নিশ্চিত করেনি। তারা এ বিষয়ে খোলা মেলা ভাবে কথা বলতেও রাজি নয়। কয়েকজন কর্মকর্তা বিষয়টিতে বিব্রত বোধ করেছেন। অনেকে আটকের বিষয়টিকে গুঞ্জন বলেও জানিয়েছেন। 

এর আগে গতকাল পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, আরাভ খানের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। ইন্টারপোল সেই আবেদন গ্রহণ করেছে।

ভারতের পাসপোর্টে দুবাইতে গিয়ে ব্যবসা করছেন বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের (এসবি) পরিদর্শক মামুন ইমরান খান হত্যা মামলার আসামি রবিউল ইসলাম ওরফে আরাভ খান। তাকে ফিরিয়ে আনতে হলে আগে ভারতের সহায়তা প্রয়োজন। ভারত হয়ে তারপরই বাংলাদেশে আনা সম্ভব রবিউল ইসলামকে এমনটাই দাবি অপরাধ বিশেষজ্ঞদের।

অপরাধ ও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্টারপোল আর দুবাই পুলিশ যারাই আরাভকে ফেরত দেবে আগে তাকে (আরাভ) পাঠানো হবে ভারতে। কারণ সে বর্তমানে ভারতের পাসপোর্ট বহন করছেন। এরপর যথাযথ পরিচয় ও কাগজ দিয়ে তাকে আনতে পারবে বাংলাদেশ। এর আগে ভারতের আইনে জাল কাগজ করার জন্য শাস্তি হতে পারে আরাভের। সেক্ষেত্রে আরাভকে বাংলাদেশ ফিরিয়ে আনতে আরো সময় লাগতে পারে। তাই কূটনৈতিক তৎপরতা ছাড়া খুব সহজে আরাভকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না।

এদিকে, দুবাই থেকে রবিউল ইসলাম ওরফে আরাভ খান সোনালীনিউজকে জানিয়েছেন, তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। এই ফাঁসানো কার্যক্রমের সঙ্গে স্বার্থান্বেশী মহল জড়িত বলেও দাবি করেছেন।

অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক সোনালীনিউজকে বলেন, আরাভ খান বর্তমানে ভারতে একজন নাগরিক। আগে বাংলাদেশকে প্রমাণ করতে হবে সে আমাদের নাগরিক। তারপর তাকে কূটনৈতিক ভাবে আনতে হবে। বিচরহীনতার কারণেই দেশে একজন পুলিশকে হত্যা করে খুনি অন্যদেশে পালিয়ে যেতে পারে। এতে পুলিশ তাদের দায় এড়াতে পারে না।

সাবেক পুলিশ প্রধান শহিদুল হক আরাভ প্রসঙ্গে বলেন, চাইলেই তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তাকে আনতে বেশ কিছু কাজ আমাদের দরকার হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিষয় তার পরিচয় নিশ্চিত করা। যা ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পুলিশ করেছে। কিন্তু যেহেতু আরাভ এখন ভারতের নাগরিক তাই তাকে দুবাই পুলিশ ধরলেও ভারতের কাছে দিবে।

তিনি আরো বলেন, ভারতের পার্সপোর্ট জাল প্রমাণিত হলে তাকে সেখানে সাজা ভোগ করতে হতে পারে। কারণ তারা কোনো ভাবেই এটাকে হাল্কা করে দেখবে না। এরপর তাকে বাংলাদেশের হাতে হয়তো দিতে পারে ভারত সরকার। তবে ভারত যেহেতু আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র তাই তারা কূটনৈতিক বন্ধুত্বের কারনে আমাদরে কাছে আরাভকে দিয়ে দিতেও পারে। সেজন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বহুগুণ থাকতে হবে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়