৭ আষাঢ়, ১৪৩৩ - ২১ জুন, ২০২৬ - 21 June, 2026

পূর্ব ইচলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিতি সংকট, পাঠদানে দুর্বলতা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ

52
2026-06-21 17:01:19

news-picture

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার পূর্ব ইচলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সংকট, পাঠদানের দুর্বলতা এবং নানা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে বিদ্যালয় পরিদর্শন করে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শিক্ষার মান এবং অবকাঠামোগত সমস্যার এক উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে।

রবিবার (২১ জুন) বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, পঞ্চম শ্রেণিতে মোট ১৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিল মাত্র ৫ জন। তৃতীয় শ্রেণিতে উপস্থিত ছিল ৩ জন শিক্ষার্থী, যদিও হাজিরা খাতায় শিক্ষার্থী সংখ্যা ৬ জন উল্লেখ রয়েছে। চতুর্থ শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল না।

পরিদর্শনের সময় দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক মাহমুদা বেগম ময়না, সহকারী শিক্ষক মকসুদা বেগম পাখি ও আরাফাত রহমান অফিস কক্ষে অবস্থান করছিলেন। এ সময় সহকারী শিক্ষক গোলাম মোর্শেদ জামিল তৃতীয় শ্রেণির ক্লাস পরিচালনা করছিলেন। অপর শিক্ষক মোশারফ হোসেন ছুটিতে রয়েছেন বলে জানা যায়।

বিদ্যালয়ের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের অনেকেই বাংলা ও ইংরেজি পাঠ স্বাভাবিকভাবে রিডিং করতে পারে না। স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিক্ষাগত দক্ষতা অর্জনে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। ফলে শিক্ষার মান দিন দিন নিম্নমুখী হচ্ছে।

এদিকে বিদ্যালয়ের ওয়াশ (WASH) রুম দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার অযোগ্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সুবিধা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ছাত্রীদের জন্য বিষয়টি বেশি দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম জোরদার করা এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে কার্যকর তদারকির অভাব রয়েছে। তাদের দাবি, বিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আরও দায়িত্বশীলতা ও নজরদারি প্রয়োজন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক মাহমুদা বেগম ময়নার দায়িত্ব পালনে অব্যবস্থাপনার কারণেই বিদ্যালয়ের এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা ও অনিয়মের বিষয়ে বারবার উপজেলা শিক্ষা অফিসে অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী। তারা বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মাহমুদা বেগম ময়না বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সঠিক নয়। বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়াতে আমরা অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। ওয়াশরুমের সমস্যাসহ অন্যান্য বিষয় সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সাঈদ বলেন, “বিদ্যালয় সম্পর্কে উত্থাপিত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সর্বশেষ

জনপ্রিয়