১০ আষাঢ়, ১৪৩৩ - ২৪ জুন, ২০২৬ - 24 June, 2026

গোডাউনের হাট গ্রোয়েন বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন, তলিয়ে গেছে ফসলি জমি

13
2026-06-24 10:47:25

news-picture
ঝুঁকিতে তিস্তা প্রতিরক্ষা বাঁধ, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি স্থানীয়দের

নিজস্ব প্রতিবেদক:

তিস্তা নদীর পানি গত তিনদিন ধরে কমা-বাড়ার ফলে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের গোডাউনের হাট সংলগ্ন গ্রোয়েন বাঁধ এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের কারণে গ্রোয়েন সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ভেঙে গিয়ে নদীর পানি প্রবেশ করায় বিস্তীর্ণ ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ভাঙন তিস্তা প্রতিরক্ষা বাঁধ পর্যন্ত পৌঁছে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গোডাউনের হাট এলাকায় গ্রোয়েন বাঁধের পাশের একটি সড়কের অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙা অংশ দিয়ে তীব্র স্রোতে পানি প্রবেশ করে আশপাশের কৃষিজমি প্লাবিত করছে। কয়েকটি জমিতে থাকা ফসল ইতোমধ্যে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। নদীর প্রবল স্রোতের কারণে ভাঙন আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসী জানান, গত কয়েকদিন ধরে তিস্তার পানির স্তর ওঠানামা করায় গ্রোয়েন বাঁধ সংলগ্ন এলাকা দুর্বল হয়ে পড়ে। পরে হঠাৎ করেই রাস্তার একটি অংশ ভেঙে যায়। এরপর থেকে ভাঙা অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতি করছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য লাল মিয়া বলেন, “গোডাউনের হাট সংলগ্ন গ্রোয়েন বাঁধ এলাকায় ভাঙন দেখা দেওয়ার পর আমরা বিষয়টি দ্রুত পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করেছি। প্রাথমিকভাবে তারা ১০০টি জিওব্যাগ সরবরাহ করেছে। কিন্তু ভাঙনের যে ব্যাপকতা এবং নদীর স্রোতের যে তীব্রতা, তাতে এই পরিমাণ বস্তা কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়। ইতোমধ্যে একটি রাস্তা ভেঙে গেছে এবং পানি ফসলি জমিতে ঢুকে পড়েছে। দ্রুত আরও জিওব্যাগ, বালুভর্তি বস্তা ও প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হয়ে তিস্তা প্রতিরক্ষা বাঁধকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তখন কৃষিজমি, বসতভিটাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।”

স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা জানান, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে তিস্তার ভাঙনের আতঙ্কে থাকতে হয় তাদের। এবার মৌসুমের শুরুতেই ভাঙন দেখা দেওয়ায় তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আরও জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলা এবং স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভাঙন তিস্তা প্রতিরক্ষা বাঁধ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়ে বৃহত্তর এলাকার মানুষ ও অবকাঠামোর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়