১৭ শ্রাবণ, ১৪৩৩ - ০২ আগস্ট, ২০২৬ - 02 August, 2026

রংপুরে এএসআই নিয়োগ পরীক্ষায় ভুয়া পরীক্ষার্থী ও দালাল চক্রের চার সদস্য গ্রেপ্তার,  ১৭ লাখ টাকায় চাকরির প্রতারণার তথ্য উদ্ঘাটন

21
2026-08-01 22:09:02

news-picture

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ পরীক্ষায় ভুয়া প্রবেশপত্র ব্যবহার করে প্রক্সি পরীক্ষার্থী প্রবেশের চেষ্টাকালে এক পরীক্ষার্থীকে আটক করার পর প্রতারণার একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্রের সন্ধান পেয়েছে রংপুর জেলা পুলিশের গোয়েন্দা  (ডিবি)। অভিযানে ভুয়া পরীক্ষার্থীসহ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন পলাতক আসামি করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মো. আশরাফুল ইসলাম (২১), রংপুরের মো. তাজমিলুর রহমান (১৯) এবং ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স, কামালকাছনা, রংপুর কার্যালয়ের কর্মরত মো. বাদশা মাসউদ আলম (৪৮)। একই মামলায় মো. নুরুল ইসলাম (৪৬) নামে আরও একজনকে পলাতক আসামি করা হয়েছে।

 ৩১ জুলাই বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের মূল ফটকে দায়িত্ব পালনকালে ডিবি সদস্যরা আশরাফুল ইসলামের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাকে যাচাই-বাছাই করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছে থাকা প্রবেশপত্রটি জাল বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। একই সময় প্রক্সি পরীক্ষার্থী হিসেবে আসা তাজমিলুর রহমানকেও আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুল ইসলাম জানান, ফায়ার সার্ভিসের কর্মচারী বাদশা মাসউদ আলম ও তার সহযোগী নুরুল ইসলাম ১৭ লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এ চুক্তির অংশ হিসেবে তিনি দিনাজপুর থেকে ঢাকা ব্যাংকের একটি হিসাবে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে আশরাফুলের কাছে একটি জাল প্রবেশপত্র পাঠানো হয়। অথচ তিনি নিয়োগের বাধ্যতামূলক শারীরিক পরীক্ষায় কখনোই অংশ নেননি। জাল প্রবেশপত্র ব্যবহার করে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুরো বিষয়টি ধরা পড়ে।

আশরাফুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে রংপুর নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড় এলাকা থেকে বাদশা মাসউদ আলমকে গ্রেপ্তার করে। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে প্রতারণা, অর্থ লেনদেন এবং জাল প্রবেশপত্র প্রস্তুত ও সরবরাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদে বাদশা মাসউদ আলম স্বীকার করেন, পলাতক নুরুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন মিলে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র গড়ে তুলেছেন। তারা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পুলিশে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে জাল প্রবেশপত্র তৈরি ও সরবরাহ করতেন। এছাড়া বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

অভিযান চলাকালে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে জাল প্রবেশপত্র, অর্থ লেনদেনের স্ক্রিনশট, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল আলামত উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় Public Examinations (Offences) (Amendment) Act, 2026-এর ৩ ও ১৩ ধারাসহ দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৪০৯, ৪৬৮, ৪৭১, ৪৭৪, ১০৯, ১৭০ ও ৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি চাকরিপ্রত্যাশীদের প্রতারণার ফাঁদে না পড়ে শুধুমাত্র সরকারি নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

 

সর্বশেষ

জনপ্রিয়