বিদ্যুৎ সংকটে জনদুর্ভোগ, গঙ্গাচড়ায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিত মানববন্ধন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকেরা। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণারও হুঁশিয়ারি দেন তারা। রোববার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার গঙ্গাচড়া জিরো পয়েন্টে ‘গঙ্গাচড়া উপজেলার সচেতন ছাত্রজনতা’র ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গঙ্গাচড়া উপজেলার সংগঠক মোহাইমিনুল ইসলাম আহাদের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা যুবদল নেতা মমিনুল ইসলাম বাবু, বড়বিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শামসুল হুদা, জাতীয় ছাত্রশক্তির উপজেলা আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল আরমান, ছাত্র প্রতিনিধি মিসবাহ-উল ইসলাম ফাহিম, মুহাইমিনুল ইসলাম আহাদ ও ছাত্রনেতা শাহজালাল শ্রাবণ।
উপজেলা যুবদল নেতা মমিনুল ইসলাম বাবু বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও কৃষক–সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অবিলম্বে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি। ছাত্র প্রতিনিধি মিসবাহ-উল ইসলাম ফাহিম বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরীক্ষার প্রস্তুতি ও স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই জনদুর্ভোগ বিবেচনায় দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা জরুরি। ছাত্র প্রতিনিধি শাহজালাল শ্রাবণ বলেন, এখন বিদ্যুৎ এলেই টেনশন কাজ করে–কখন আবার চলে যায়। এই অনিশ্চয়তার কারণে স্বাভাবিকভাবে ঘুমাতেও পারি না।বড়বিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শামসুল হুদা বলেন, বিদ্যুৎ এখন মানুষের মৌলিক চাহিদার অংশ। অথচ গঙ্গাচড়ার মানুষ দিনের পর দিন অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দ্রুত এ সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
সমাবেশে বক্তারা নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। তারা বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে আগামী দিনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এদিকে, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী পল্লী বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে প্রতীকী গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও আন্দোলনকারীরা আপাতত সেটি স্থগিত রাখেন। তারা জানান, কর্তৃপক্ষকে ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। এর মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে প্রতীকী গায়েবানা জানাজাসহ আরও কঠোর কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।