১৮ শ্রাবণ, ১৪৩৩ - ০২ আগস্ট, ২০২৬ - 02 August, 2026

বন্যায় বিধ্বস্ত নোহালী ইউনিয়ন: ১২ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও তিস্তার ভাঙন রোধে ডিসির কাছে স্মারকলিপি

53
2026-08-02 17:54:58

news-picture

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের বন্যাকবলিত ২, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ১২ কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ সড়ক দ্রুত সংস্কার এবং তিস্তা নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত প্রতিরক্ষা বাঁধ রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে রংপুর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন এলাকাবাসী।

রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যা ও তিস্তা নদীর প্রবল স্রোতে চর বাগডহরা, আশ্রয়ণ বাজার, আনন্দ বাজার, মিনার বাজার, উত্তরপাড়া, বড়াইবাড়ী ও কালীগঞ্জ খেয়াঘাটসহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় ১২ কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ সড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক স্থানে সড়ক ধসে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ফলে হাজারো সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক ও রোগী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। জরুরি রোগী পরিবহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, বড়াইবাড়ী খেয়াঘাট থেকে কালীগঞ্জ খেয়াঘাট পর্যন্ত এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত প্রতিরক্ষা বাঁধটি বর্তমানে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনের মুখে রয়েছে। এছাড়া মধ্য চর বড়াইবাড়ী খেয়াঘাট সংলগ্ন প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা না হলে যে কোনো সময় বাঁধটির অংশ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে নোহালী ইউনিয়নের ২, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শত শত পরিবার বসতভিটা হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, তাদের দুর্ভোগ এবং প্রতিরক্ষা বাঁধের ঝুঁকির বিষয়টি ইতোমধ্যে জাতীয় টেলিভিশনসহ বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

স্মারকলিপিতে ক্ষতিগ্রস্ত ১২ কিলোমিটার সড়কের জরুরি সংস্কার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে জিও ব্যাগ ফেলে নদীভাঙন রোধ এবং বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দ্রুত পুনর্বাসন ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

এ সময় নোহালী ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর পক্ষে মো. আল-আমিন, মো. ইসমাঈল হোসেন, মো. মোমাইম হোসেন, মো. মুকুল মিয়া, মো. শহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় বাসিন্দারা গণস্বাক্ষরসহ স্মারকলিপি জমা দেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে আগামী বর্ষায় তিস্তার ভয়াল ভাঙনে বিস্তীর্ণ জনপদ, ফসলি জমি এবং শত শত পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়