১৭ কার্তিক, ১৪৩৩ - ০১ নভেম্বর, ২০২৬ - 01 November, 2026

ভারতের তামিলনাড়ুতে চাকরি করতে গিয়ে ৭ বছর ধরে নিখোঁজ সুন্দরগঞ্জের জাহিদুল ইসলাম

11
2026-11-01 16:52:59

news-picture

হযরত বেল্লাল, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা):

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের কানিচরিতাবাড়ি গ্রামের মোঃ আব্দুস সামাদের ছেলে মোঃ জাহিদুল ইসলাম দীর্ঘ প্রায় সাত বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। জীবিকার তাগিদে বাংলাদেশ থেকে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের তিরুপুর জেলায় চাকরি করতে গিয়ে তিনি নিখোঁজ হন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাচ্ছে না পরিবার। এতে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটছে স্বজনদের।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জাহিদুল ইসলাম তিস্তা নদীভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দা। নদীভাঙন ও আর্থিক সংকটের কারণে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। সংসারের অভাব-অনটন দূর করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর আশায় তিনি ঢাকায় একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। পরবর্তী সময়ে ওই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে ভারতের একটি গার্মেন্টস কারখানায় কাজ করতে যান তিনি।

ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের তিরুপুর জেলায় দীর্ঘদিন চাকরি করার সময় স্থানীয়ভাবে তাঁর পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তিনি কৃষ্ণ চন্দ্র বিসওয়ালের মেয়ে পার্বতী বিসওয়ালকে বিয়ে করেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে। পার্বতী বিসওয়াল সনাতন ধর্মাবলম্বী।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের কয়েক বছর পর ২০১৯ সালে জাহিদুল ইসলাম ভারত থেকে বাংলাদেশে নিজ বাড়িতে আসেন। এ সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে আবার ভারতে ফিরে যান। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। দীর্ঘ সাত বছর ধরে খোঁজখবর নেওয়া ও বিভিন্নভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পরিবার।

স্বজনদের দাবি, জাহিদুল ইসলাম ভারতে যাওয়ার আগে তাঁর কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং বিয়ের রেজিস্ট্রিসংক্রান্ত নথি রেখে গিয়েছিলেন। এসব নথি তাঁর পরিচয় ও বৈবাহিক সম্পর্কের তথ্য অনুসন্ধানে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন পরিবারের সদস্যরা।

দীর্ঘদিন ধরে প্রিয়জনের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে হতাশা ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে। তাঁদের একটাই প্রত্যাশা জাহিদুল ইসলাম কোথায় আছেন, কী অবস্থায় আছেন, তা যেন জানা যায়। তিনি জীবিত থাকলে পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ স্থাপনের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছেন স্বজনেরা।

জাহিদুল ইসলামের সন্ধান পেতে পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসীকল্যাণ-সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। কেউ তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য জানলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন স্বজনেরা।

দীর্ঘ সাত বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পরিবারের কাছে জাহিদুল ইসলামের সন্ধান ফিরবে, এমন আশায় দিন গুনছেন তাঁর স্বজনেরা।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়