২৪ কার্তিক, ১৪৩৩ - ০৮ নভেম্বর, ২০২৬ - 08 November, 2026

গঙ্গাচড়ায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন

131
2026-11-07 21:53:43

news-picture

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা, দেশাত্মবোধক গান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ মাল্টিপারপাস হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রায়হান সিরাজী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. জেসমিন আক্তার। উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আবতাবুজ্জামান চয়নের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) হামিদুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মো. রায়হান সিরাজী বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এ দিবস আমাদের জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। অতীতের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা করেন গঙ্গাচড়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান বিনোদ চন্দ্র সরকার। বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলেমুল বাসার, গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল ইসলাম, সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান আলী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক আপেল মাহমুদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আখেরুজ্জামান মিলন, গঙ্গাচড়া সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আখের মিঞা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম চাঁদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গঙ্গাচড়া উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মো. ইউনুছ আলী, গণমাধ্যমকর্মী আব্দুল মজিদ ও আব্দুল বারী স্বপন প্রমুখ।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ দিবসের তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্য সুসংহত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশপ্রেম, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ঐক্যের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান তাঁরা।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. জেসমিন আক্তার বলেন, জাতীয় দিবসগুলো আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও দেশপ্রেমের চেতনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। নতুন প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস সম্পর্কে জানাতে এবং দেশ গঠনে উদ্বুদ্ধ করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা জানানো হয়। এ সময় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। হাসপাতাল ও এতিমখানায় উন্নতমানের খাবার পরিবেশন এবং মসজিদ, মন্দির ও গির্জায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়