কুড়িগ্রামে সম-নাগরিকত্ব শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত
রাজারহাট(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামে সম-নাগরিকত্ব ও নাগরিক অধিকারের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার(৩মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার আলোর ভূবন হল রুমে বাংলাদেশের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান এডাব-এর উদ্যোগে এ সেমিনারে নাগরিক অধিকার, সমতা ও বৈষম্য নিরসনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
এডাব কেন্দ্রীয় কমিটির কার্য্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সলিডারিটি এনজিও সংস্থার নির্বাহী পরিচালক এস এম হারুন অর রশিদ লালের সভাপতিত্বে এডাব রংপুর বিভাগীয় সমন্বয়কারী আনিছুর রহমানের পারচালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান মন্ডল, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো.গোলাম মোস্তফা সরকার, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম শরিফুল ইসলাম খন্দকার, চাষী নুরন্নবী সরকার, প্রেসক্লাব রাজারহাট’র সাধারণ সম্পাদক প্রহলাদ মন্ডল সৈকত, ফ্রেন্ডশীপ কুড়িগ্রামের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী আব্দুস সালাম, ওয়াল্ড ভিশনের কুড়িগ্রাম এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার নীতা ফ্লোরা দাস, ব্র্যাক কুড়িগ্রামের এরিয়া ম্যানেজার সৈয়দ ফাহিদ হাসান, মনি জিতেন শংকর স্মৃতি পরিষদের আব্দুল মালেক, পুরোহিত জীবন চক্রবর্তী, দলিত সম্প্রদায়ের অলক কুমার দাস ও তৃতীয় লিঙ্গের আমির হোসেন প্রমূখ।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, জাতি, আর্থ-সামাজিক অবস্থা কিংবা জন্মস্থানের ভিত্তিতে কোনো নাগরিককে বৈষম্যের শিকার করা যাবে না। রাষ্ট্রের সকল নাগরিক সমান সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার ভোগ করবেন-এটাই সম-নাগরিকত্বের মূল দর্শন। সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখনও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) জনগোষ্ঠী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ নানা ক্ষেত্রে সমান সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বক্তারা আরও বলেন, সম-নাগরিকত্ব প্রতিষ্ঠায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমকে একযোগে কাজ করতে হবে। নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, বৈষম্যবিরোধী আইন কার্যকর প্রয়োগ এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি সমতা-ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
সেমিনারে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বাংলাদেশ-এর উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে সকল নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। সম-নাগরিকত্ব প্রতিষ্ঠাই পারে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মাণ করতে। সেমিনারে জেলার বিভিন্ন এনজিও কর্মকর্তা, সাংবাদিক, দলিত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধি গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।