ডাবল স্ট্যান্ড নিয়ে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নের পক্ষে আমরা নই: জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে নোট অব ডিসেন্ট বাদ দিয়ে- ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু
আহসান হাবীব নীলু, কুড়িগ্রাম:
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, ‘ভিন্ন মতটাকেই গণতন্ত্র বলা হয়। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। কিন্তু ডাবল স্ট্যান্ড নিয়ে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নের পক্ষে আমরা নই। আমরা সবাইকে নিয়ে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা বলি সবার আগে বাংলাদেশ। মানুষ যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছেন, সেটি যথাযথভাবে পালন করতে চাই।’
তিনি আরো বলেন," একটি পক্ষ দেশে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে অপপ্রচার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তাদের দলীয় এজেন্ডা আমাদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে চায়। কিন্তু আমরা পরিস্কার করতে চাই জুলাই সনদ আমরা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবো। তবে বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষরের সময় যেসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে তা বাদে বাস্তবায়ন করবো। এটা পরিস্কার হিসাব। বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। আমরা যে চারটি বিষয়ে স্বাক্ষর করছি গণভোটে তার একটি পরিবর্তন করেছে। কাজেই আমরা গণভোটের পক্ষে নই।
আমাদের দল জুলাই বিপ্লবের আগেই ৩১ দফা সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা সংস্কারের পক্ষে। জুলাই সনদে স্পষ্ট উল্লেখ ছিলো যে দল জনগণের রায় পেয়ে সরকার গঠন করবে তারা নোট অব ডিসেন্ট সহ বাস্তবায়ন করবে। "
রোববার(১০ মে) বিকেলে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের নির্মাণাধীন ভবনের নিচতলায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে দুপুরে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের আরাজী পলাশবাড়ী এলাকায় খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ত্রাণমন্ত্রী।
মতবিনিময় সভায় ত্রাণমন্ত্রী বলেন, কুড়িগ্রামকে এখনো পশ্চাৎপদ জেলা হিসেবে দেখা হয়। এই জেলাকে উন্নত জেলার কাতারে নিতে জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যম—উভয়ের দায়িত্ব রয়েছে। সাংবাদিকেরা সঠিকভাবে সমালোচনা করলে জনপ্রতিনিধিরা সঠিক পথে থাকেন। এতে দেশ ও জনপদের উন্নয়ন হয়।
তিনি বলেন, সত্যতা যাচাই ছাড়া কোনো সংবাদ প্রকাশ করা উচিত নয়। নির্ভুল ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ হলে সাংবাদিকতার মান যেমন বাড়ে, তেমনি এলাকার উন্নয়নও ত্বরান্বিত হয়।
ত্রাণমন্ত্রী আরও বলেন, ‘একটি তিস্তা নদীর কারণে একটি জনপদ কীভাবে পশ্চাৎপদ হয়ে পড়েছে, রংপুর বিভাগ তার উদাহরণ। অথচ নদীকেন্দ্রিক সভ্যতা গড়ে ওঠার কথা ছিল।’
কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সফি খানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান খন্দকারের সঞ্চালনায় সভায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ,
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সদস্যসচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান ও শফিকুল ইসলাম বেবু, অ্যাডভোকেট আহসান হাবীব নীলু, অধ্যাপক লিয়াকত আলী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ রানা, কুড়িগ্রাম পৌরসভার সাবেক মেয়র আবু বকর সিদ্দিক, জেলা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আব্দুল আজিজ প্রমুখ।
এর আগে সকালে লালমনিরহাটের বাসভবন থেকে সড়কপথে কুড়িগ্রামে পৌঁছান ত্রাণমন্ত্রী। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এরপর কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্য স্থান নালিয়ারদোলা এলাকা পরিদর্শন শেষে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।