৩০ বৈশাখ, ১৪৩৩ - ১৩ মে, ২০২৬ - 13 May, 2026

গঙ্গাচড়ায় বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ উন্মুক্ত ও প্রধান শিক্ষকের অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন, জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি

1
2026-05-11 18:03:55

news-picture

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি:

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মনিরাম দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ শিক্ষার্থী ও এলাকার যুবসমাজের জন্য উন্মুক্ত করা এবং বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন শিক্ষার্থী, যুবসমাজ ও সচেতন নাগরিকরা।

সোমবার (১১ মে) দুপুর ১২টায় রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, স্থানীয় যুবসমাজ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের একমাত্র খেলার মাঠে গাছ রোপণ ও পাকা বেদি নির্মাণের কারণে দীর্ঘদিন ধরে খেলাধুলা বন্ধ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে।

নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আবির হোসেন বলেন, “আমাদের স্কুলের একমাত্র খেলার মাঠটি গাছ লাগানো এবং পাকা বেদি নির্মাণের কারণে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে। আমরা নিয়মিত খেলাধুলা করতে পারছি না, যা আমাদের জন্য খুবই কষ্টদায়ক।”

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. মোকসেদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “শুধু মাঠের সমস্যা নয়, পড়াশোনার পরিবেশও ভালো না। অনেক ক্লাসরুমের ফ্যান নষ্ট, বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট রয়েছে। হোয়াইট বোর্ডে লেখার জন্য মার্কারও থাকে না। নিজেদের টাকা দিয়ে মার্কার কিনে ক্লাস করতে হয়।”

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “ভোকেশনাল শাখায় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই। ল্যাপটপ থাকলেও ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না। ফলে আমরা ব্যবহারিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।”

যুবসমাজের পক্ষে বক্তব্য দেন মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ। তিনি বলেন, “এই মাঠটি শুধু স্কুলের নয়, আশপাশের কয়েকটি গ্রামের তরুণদের একমাত্র খেলার জায়গা। মাঠ বন্ধ থাকায় যুবসমাজ দিশেহারা হয়ে পড়ছে। খেলাধুলার সুযোগ না থাকায় মাদক ও অনলাইন জুয়ার প্রবণতা বাড়ছে।”

শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইংরেজি ক্লাস অনিয়মিত, টয়লেট অস্বাস্থ্যকর ও ব্যবহার অনুপযোগী, পুরোনো টিনশেড ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং জাতীয় দিবসগুলো যথাযথভাবে পালন করা হয় না।

সাবেক শিক্ষার্থী শাওন বলেন, “আগে আমরা নিয়মিত এই মাঠে খেলাধুলা করতাম। কিন্তু গত দুই বছর ধরে এলাকার যুবসমাজকে মাঠে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। অথচ ২৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে স্কুল মাঠে খেলাধুলার বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের এই আচরণ সেই প্রজ্ঞাপনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের সামিল।”

মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ দ্রুত উন্মুক্ত করা, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক সমস্যা সমাধানের দাবি জানানো হয়।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, “শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খেলার মাঠ তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য অপরিহার্য। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে আন্দোলনকারীরা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। অন্যথায় আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়