যেকোনো মুহূর্তে তিস্তায় পাহাড়ি ঢল: উত্তরবঙ্গের ৫ জেলায় বন্যার শঙ্কা !
আসাদুজ্জামান সাজু, লালমনিরহাট:
ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যে কোনো মুহূর্তে দেশের উত্তরাঞ্চলের তিস্তা ও ধরলাসহ কয়েকটি নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার তিস্তা অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে মাঝারি থেকে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যা পরিস্থিতিকে ঘিরে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজে বাড়তি সর্তক অবস্থান নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এক বিশেষ সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, আগামী ২৫ জুন থেকে ২ জুলাইয়ের মধ্যে উত্তরবঙ্গের এই জেলাগুলো বন্যার কবলে পড়তে পারে।
পাউবোর সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী আগামী কয়েক দিনে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, আসাম, মেঘালয় ও ত্রিপুরা রাজ্যে অস্বাভাবিক এবং অত্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। উজানের এই বিপুল পরিমাণ বৃষ্টির পানি তিস্তা, ধরলা, দুধকুমারসহ অন্যান্য সীমান্ত নদী হয়ে তীব্র বেগে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। ফলে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে দুই কূল ছাপিয়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
তিস্তা ও ধরলা নদীর তীরবর্তী এবং চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বন্যা দেখা দিলে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হবে এবং হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়বে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মুহঃ রাশেদুল হক প্রধান জানান, ইতিমধ্যে উপদ্রুত জেলাগুলোর স্থানীয় প্রশাসনকে জরুরি ত্রাণসামগ্রী, আশ্রয়কেন্দ্র ও উদ্ধারকারী নৌকা প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড নিয়মিত নদীর পানিপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করছে। প্রতি ঘণ্টার আপডেট কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে অবহিত করা হচ্ছে।