১৬ আষাঢ়, ১৪৩৩ - ৩০ জুন, ২০২৬ - 30 June, 2026

কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় বাড়ছে ঝুঁকি: দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়কের ২০ স্থানে ধস

98
2026-06-30 19:29:19

news-picture

নির্মল রায়:

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর সংযোগ সড়কের অন্তত ২০টি স্থানে ভয়াবহ ধসের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষার শুরু থেকেই সড়কের বিভিন্ন অংশে ভাঙন ও দেবে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। টানা বৃষ্টির ফলে বর্তমানে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় গর্ত ও ধস দেখা দিয়েছে। এতে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন যাত্রী, পথচারী ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চালকরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার লক্ষীটারী ইউনিয়নের মহিপুর এলাকায় দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর উত্তর প্রান্তে সড়কের বিভিন্ন অংশ দেবে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও পিচ উঠে গেছে, কোথাও আবার সড়কে ফাটল দেখা দিয়েছে। অনেক যানবাহন বাধ্য হয়ে গতি কমিয়ে চলাচল করছে, আবার কিছু চালক বিপরীত পাশ ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ে পথ পার হচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দ্বিতীয় তিস্তা সেতু-কাকিনা আঞ্চলিক সড়কটি বুড়িরহাট ও মহিপুর হয়ে লালমনিরহাটের কাকিনা, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম, তুষভান্ডার এবং বুড়িমারী স্থলবন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত। উত্তরাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষার শুরু থেকেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে ক্ষয় ও দেবে যাওয়ার ঘটনা ঘটছিল। কিন্তু সময়মতো সংস্কার বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় বর্তমানে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় গর্তগুলো স্পষ্ট দেখা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

সেতু সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা রাজ্জাক মিয়া বলেন, “কয়েকদিনের বৃষ্টির পর রাস্তার বিভিন্ন অংশ আরও বেশি দেবে গেছে। এখন বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

পথচারী সোহেল মিয়া বলেন, “সড়কটির অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। রাতে চলাচল করতে ভয় লাগে। গর্তগুলো ঠিকমতো দেখা যায় না। আরও বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।”

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ভারী যানবাহনের চাপ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত অংশে দ্রুত সতর্কতামূলক চিহ্ন স্থাপন ও টেকসই সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

লক্ষীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, “এটি শুধু একটি স্থানীয় সড়ক নয়, রংপুর ও লালমনিরহাট অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সড়কের নিচের মাটি ধসে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে সড়ক দেবে গেছে। দ্রুত কাজ শুরু না হলে ভবিষ্যতে বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।”

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, “ধসের বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেরামত কাজ শুরুর প্রস্তুতি চলছে।”

তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু সাময়িক মেরামত নয়, সড়কের গঠনগত দুর্বলতা চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সংস্কার করতে হবে। অন্যথায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই সংকট দেখা দিতে পারে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়