৩ আষাঢ়, ১৪৩৩ - ১৮ জুন, ২০২৬ - 18 June, 2026

লালমনিরহাটে শিশু নন্দিনীকে ধর্ষণের পর হত্যা: মূলহোতা বিধানের স্বীকারোক্তি, ৭ দিনের মধ্যে চার্জশিটের প্রস্তুতি

38
2026-06-17 19:41:56

news-picture

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী শিশু নন্দিনী রানীকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার লোমহর্ষক সত্যতা মিলেছে। ঘাতক বিধান চন্দ্র (২২) ও তার বাবা রণজিৎ কুমারকে (৪২) গ্রেপ্তারের পর আদালতে তোলা হলে মূলহোতা বিধান চন্দ্র নিজের মুখে এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

এদিকে, এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জেলাজুড়ে তীব্র গণক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে এই মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) আদালতে দাখিল করা হবে এবং দ্রুততম সময়ে খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসি নিশ্চিতের প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।

এর আগে বুধবার আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে মাটিচাপা অবস্থায় নিষ্পাপ শিশু নন্দিনীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের পরপরই নরপিশাচ বিধান চন্দ্রকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে ফুঁসে ওঠে বিক্ষুব্ধ জনতা। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে হাজারো মানুষ খুনি বিধানের বাড়িতে চড়াও হয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। মুহূর্তের মধ্যে তিনটি টিনের ঘর ও আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

উত্তেজিত জনতা ঘাতক বিধানকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সাথে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতার ইট-পাটকেলের আঘাতে লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার এবং ওসিসসহ অন্তত ২০ জন পুলিশ ও বিজিবি সদস্য আহত হন। এ সময় লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের (এসপি) গাড়ি সহ অন্তত ৬টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার বিকেল চারটার দিকে শিশু নন্দিনী রানী বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরদিন মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়রা একটি ভুট্টাক্ষেতে বস্তাবন্দি অবস্থায় নন্দিনীর মরদেহ দেখতে পায়। পরবর্তীতে বুধবার সেখান থেকে মাটিচাপা অবস্থায় লাশটি সম্পূর্ণ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার রাত একটার দিকে নন্দিনীর লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরি এবং রাত ৩টার দিকে স্থানীয় শ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুস সাকিব সজিব আসামির স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে জানান: "প্রায় দুই মাস আগে নিহত শিশুর পরিবারের সাথে জমি সেচের পানি নিয়ে আসামি পরিবারের দ্বন্দ্ব হয়েছিল। এ নিয়ে গ্রামে একটি সালিশ বৈঠকও হয়। সেই ঘটনার চরম প্রতিশোধ নিতেই বিধান চন্দ্র শিশুটিকে ফুসলিয়ে নিয়ে গিয়ে পাশবিক নির্যাতন ও হত্যা করে। এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ গোপনে গুম করার জন্য ভুট্টাক্ষেতে মাটিচাপা দিতে বিধানকে সরাসরি সহায়তা করে তার বাবা ও মা।"

পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ৭ দিনের মধ্যে নিখুঁত চার্জশিট গঠন করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়