৩ আষাঢ়, ১৪৩৩ - ১৮ জুন, ২০২৬ - 18 June, 2026

বদরগঞ্জে বন বিভাগের অনুমতি ছাড়াই শাল গাছ কর্তনের অভিযোগ উঠেছে

10
2026-06-17 19:43:42

news-picture

বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:

রংপুরের বদরগঞ্জে নিয়মনীতি ভঙ্গ করে আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্বেও জমির বিপুল পরিমাণ শাল গাছ কর্তনের অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খাগড়াবন্ধ শাহপাড়া গ্রামের জমিতুল্লা শাহ'র ৬ ছেলে ও তিন মেয়ে রেখে মৃত্যুবরণ করেন। তবে সর্বকনিষ্ঠ সন্তান আব্দুল আজিজ শাহ কে তার বড় ভাই ও বোনেরা সঠিকভাবে জমা জমির অংশ ভাগ না দেওয়ায় তিনি বিগত ২০১৬ সালে রংপুর আদালতে একটি সিভিল মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলাটি এখনো চলমান রয়েছে। ওই মামলাকৃত জমিতে শাল গাছ সহ বিভিন্ন জাতের গাছপালা রয়েছে। সেই গাছগুলো দিনে দুপুরেই কর্তন করে বিক্রি করছেন শহিদুল হক স্যার নির্দেশে তার ছেলে সাইফুল ইসলাম শাহ।

বাংলাদেশ সরকারের বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া সাধারণ মানুষ শালগাছ কর্তন করতে পারবেনা। তবে ইউপি চেয়ারম্যান, বন কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) বরাবর লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে গাছ কর্তন করা যেতে পারে। কিন্তু ভূমিদস্যু শহিদুল হক শাহ ও তার ছেলে সাইফুল ইসলাম শাহ পেশী শক্তির বলে মামলাকৃত জমির প্রায় লক্ষাধিক টাকার শাল গাছ কেটে সবাড় করছে। গত ১৬ জুন সোমবার সকালে অবৈধ ভাবে শাল গাছ কর্তনের সময় মামলার বাদী আব্দুল আজিজ শাহ লোহানীপাড়া বন বিভাগে খবর দিলে বন বিভাগ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় কর্তনকৃত গাছগুলো সংশ্লিষ্ট বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখা হয়।

এ বিষয়ে উক্ত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, সাইফুল ইসলাম শাহ ও তার পরিবারের লোকজন শাল গাছ কর্তনের বিষয়ে বন বিভাগ সহ কোন দপ্তরে অনুমতি নেয়নি। তারা বনবিভাগের অনুমতি ছাড়াই শাল গাছগুলো কর্তন করেছে। তাই বন-বিভাগ গাছ আটক করে ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে জিম্মা রেখেছে। বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত শাল গাছ সেখানে থাকবে।

লোহানীপাড়া বন-বিট কর্মকর্তা মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, শাল গাছগুলো কর্তনের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। সাইফুল শাহ ও কাঠ ব্যবসায়ী সাইদুল হক (ঠোন্টে) দীর্ঘদিন ধরে দফায় দফায় শাল গাছ কর্তন করেছে। সোমবার কিছু গাছ আটক করা হয়েছে এবং তাদের নামে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে শাল্টি গোপালপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন মুঠো ফোনে বলেন, শাল গাছ কর্তন করতে হলে রংপুর বিভাগীয় অফিসে আবেদন করতে হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিন তদন্ত করা হয়। শাল গাছের সাথে সরকারি স্বার্থ জড়িত থাকলে আবেদন মঞ্জুর হবে না। আর পৈত্রিক বা জোত জমির গাছ হলে আবেদন মঞ্জুর হয়। সেক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি ফি জমা দিয়ে শাল গাছ কর্তন করতে পারবে। যদি কোন ব্যক্তি এই বিধি-বিধান অমান্য করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

অপরদিকে ওই গন্ডোগুলি জমির মামলার বাদী আব্দুল আজিজ শাহ বলেন, অবৈধ ভাবে গাছ বিক্রয়কারী সাইফুল ইসলাম শাহ ও ক্রেতা লোহানীপাড়া ইউনিয়নের মন্ডলেরহাট বাজারের কাঠ ব্যবসায়ী সাইদুল হকের কঠিন শাস্তি চাই এবং উক্ত জমি উদ্ধারের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কাছে বিনীতভাবে আবেদন জানাচ্ছি।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়