৭ সন্তান থেকেও ভিক্ষার ঝুলি অহেতন নেছার কপালে
তাহাম্মেল হোসেন সবুজ, মিঠাপুকুর:
আহেতন নেছা (৮০) স্বামীকে হারিয়েছেন ৩০ বছর আগে। ৪ মেয়ে ও ৩ ছেলে সন্তানকে মানুষ করে বিয়ে দিয়েছেন। কেউ মায়ের খোঁজ রাখেনা। বিভিন্ন জায়গায় ভিক্ষা করে চলে তাঁর সংসার। খেয়ে না খেয়ে যাচ্ছে তার দিনগুলো। অহেতন নেছা বড় হযরতপুর ইউনিয়নের খামার ফতেপুর গ্রামের মৃত দুলা মিয়ার স্ত্রী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভাঙাচুরা টিন দিয়ে ঘেরা একটি ঘরে বসবাস করেন অহেতন নেছা। ঘরের কোন আসবাবপত্র নেই। শুধুমাত্র একটি ভাঙা চৌকিতে ঘুমান তিনি। সেখানেই কাটছে তার জীবনের শেষ সময়টুকু। খাবারের বন্দোবস্ত করতে তিনি মানুষের বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করেন। তা দিয়েই চলছে তার অন্নের জোগান।
এলাকাবাসি জানান, তাঁর শরিরে বাসা বেঁধেছে নানা ধরনের রোগ ব্যাধি। তিনি ঠিকমত হাটতে পারেন না। একারণে খাবারও জোটাতে পারন না তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অহেতন নেছা বর্তমানে রংপুর কেরামতিয়া মসজিদের সামনে ভিক্ষা করেন। সেখানে একটি টুকরি ঘর তুলে রয়েছেন তিনি। কিছুদিন পর পর এলাকায় এসে গ্রামের মানুষদের দেখে যান।
প্রতিবেশিরা জানান, অহেতন নেছার ৭ সন্তান থাকলেও কেউ তাঁর খোঁজ রাখেন না। একারণে তিনি ভিক্ষা করে জীবন যাপন করেন। কষ্টে আছেন তিনি।
অহেতন নেছা বলেন, ছেলেমেয়েরা খাবার দেয়না। স্বামী মারা গেছে ৩০ বছর আগে। একারণে ভিক্ষা করে আমার খাবার জোটে। যেদিন ভিক্ষা করি সেদিন খাবার খাই, না হলে উপোষ থাকতে হয়। নিদারুণ কষ্টে কাটছে আমার জীবনের শেষ সময়টুকু।