সাব ঠিকাদারের কাছে কাজ বিক্রি করতেই সময় শেষ, রাজারহাট-আনন্দবাজার সড়কের কাজ স্থবির, বেড়েছে জনদুর্ভোগ
প্রহলাদ মন্ডল সৈকত, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম):
কুড়িগ্রামের রাজারহাট হতে আনন্দবাজার পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির সংস্কার কাজ দীর্ঘ সময় ধরে স্থবির হয়ে পড়ে আছে। যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ৫ বছর ধরে কার্পেটিং উঠে ছোট-বড় গর্ত ও খানাখন্দে ভরা রাস্তাটি বর্তমানে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাজারহাট-আনন্দবাজার সড়ক পাকাকরণের কাজ শুরুর দুই মাসের মধ্যেই ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে ঠিকাদার। একাধিকবার প্রকল্পটি সাব ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করায় সড়কটির সংষ্কারের কাজ শেষ না হতেই সময় অতিবাহিত হয়েছে। ফলে ২০টি গ্রামের ৪০ হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। রাজারহাট উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ রাজারহাট আনন্দ বাজারের সংষ্কারের কাজ ধীর গতিতে এগুচ্ছে বলে দাবী করলেও ২৮ ফেব্রুয়ারী(শনিবার) সরেজমিনের গিয়ে কাজ বন্ধ দেখা গেছে। উমরমজিদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আহসানুল কবির আদিল ও চাকিরপশার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম রাজারহাট হতে আনন্দবাজার সড়কের কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ দেখে এসেছেন বলে কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন। এ বছরে ৩০ জানুয়ারীতে সড়কটির সংষ্কারের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও স্থবির হয়ে থাকায় আগামী দুই বছরেও সড়কটি দিয়ে মানুষ যাতায়াত করতে পারবে না বলে এলাকাবাসীরা মন্তব্য করেছেন। তবে ঠিকাদার দাবী করেছেন আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজের সময় বর্ধিত করা হয়েছে।
জানা গেছে, কাজের প্রথমেই সড়কের ধার কেটে বড় গর্ত করে রাখা হয়েছে। আবার সড়কের কিছু অংশে খোয়া উল্টে দিয়েছে। পুরো সড়কটির মাঝখান ভরে গেছে গর্তে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) রুরাল কানেকটিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের (আরসিআইপি) অধীনে কাজটি বাস্তবায়নের জন্য ২০২৩ সালে ১৪ কোটি ৪৯ লাখ ৪৬ হাজার ১০ টাকা চুক্তি সম্পন্ন করে। কাজটি পান রংপুরের ঠিকাদার খায়রুল কবির রানা। ওই ঠিকাদার কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর হারিশুল বাড়ি রনি নামের এক সাব-ঠিকাদারের কাছে প্রকল্পটি বিক্রি করেন। তিনি আবার আবুশামা নামের আরেক এক সাব-ঠিকাদারের কাছে প্রকল্পটি বিক্রি করেন। ২৪ সালের শেষের দিকে সাব-ঠিকাদার আবুশামা প্রকল্পটির কাজ শুরু করে কাজ অসমাপ্ত রেখে পালিয়ে যান। গত ২৪ জুলাই’২৪ হতে ৩০ জানুয়ারি’২৬ইং এর মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার শর্ত থাকা সত্ত্বেও মাত্র ৫ শতাংশ কাজ করেই থেমে যায় প্রকল্পটি। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির খোয়া ও পিচ উঠে গর্ত এবং খানাখন্দে ভরপুর হয়ে বেহাল হয়েছে। কাজ শুরুর পর আবার সড়ক খুঁড়ে রেখে সাববেজ ও পুরনো ইট-পাথর উল্টে রাখার কারণে সড়কটি এখন পুরোপুরি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। গত দুই বছর ধরে সড়কটি দিয়ে মানুষ যাতায়াত করতে পারছে না। অথচ ঠিকাদার কাজের বিপরীতে দুই ধাপে প্রায় দেড় কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন।
ওই সড়কের পাশের চাকিরপশার তালুক গ্রামের আশরাফুল আলম বলেন, সড়কটির এমন অবস্থার কারণে অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসসহ কোনো গাড়ি চলাচল করতে পারছে না। স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীরা অটোরিকশায় কিংবা ভ্যানে করে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। বেশ কয়েকবার দূর্ঘটনার কবলে পড়েছে অটোরিক্সা। স্কুলগামী শিক্ষার্থী, রোগী ও অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের চরম বিপদে পড়তে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে সাব ঠিকাদার হারিশুল বাড়ি রনি বলেন, এর আগে ঠিকাদার আবুশামা কাজটি করছিল। এখন আমি করছি। তবে কাজটি দেখতে আমি যাই নাই। ম্যানেজার দেখভাল করছে। কি হচ্ছে জানি না। এ বছরের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো আছে।
শনিবার(২৮ফেব্রুয়ারী) এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার বলেন, আমি সদ্য যোগদান করেছি। সঠিকভাবে বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে সম্ভবত কাজের সময় বর্ধিত করা হয়েছে।
রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল ইমরান বলেন, বেশ কয়েকবার ধরে প্রতি আইনশৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হচ্ছে। কাজ চলমান রয়েছে বলে উপজেলা প্রকৌশলী আমাকে জানিয়েছেন। বিষয়টি ডিসি স্যারের নলেজেও রয়েছে।
কুড়িগ্রাম এলজিইডির সহকারি প্রকৌশলী আবু তৈয়ব সরকার বলেন, মুল ঠিকাদরকে কাজের তাগিদ দিয়ে বার বার চিঠি দেওয়া হচ্ছে। তারপরও কাজের গতি নেই।