কুড়িগ্রামে কমতে শুরু করেছে নদ-নদীর পানি দুধকুমার নদী এখনো ১১ সে.মিটার বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে
আহসান হাবীব নীলু , কুড়িগ্রাম:
‘আজ দু’দিন হলো ঘরের ভিতর পানি! ছেলেমেয়ে নিয়ে অনেক কষ্টের মধ্যে আছি। রান্না-বান্না করারও সমস্যা! কাজকামও নাই, কি আর করি খুব ভোগান্তির মধ্যে আছি।’ বিষন্ন স্বরেই বথাগুলো বললেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দুধকুমার নদী তীরবর্তী মুড়িয়ারহাট গ্রামের বাসিন্দা দিনমজুর নুর মোহাম্মদ (৫০)। দুধকুমার নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তার ঘরের ভিতর এখন পানি। আসবাবপত্রের কিছুটা অংশ পানিতে নিমজ্জিত অবস্থায় রয়েছে। ঘরের ভিতর রান্না করার কোন ব্যবস্থা নেই, ফলে অন্যের উঁচু বাড়িতে গিয়ে রান্নাবান্না করতে হচ্ছে। গত দু’দিন ধরেই এই পরিবারটি ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন।
সোমবার (২৯জুন) রাতে দুধকুমার নদীর পানি বিপদসীমার ২৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এই গ্রামের একটি অংশে নদী রক্ষা পাড়ের প্রায় ১৫মিটার এলাকা ভেঙ্গে যায়। এরপরেই ভাঙ্গা অংশ দিয়ে হু-হু করে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে থাকে। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড খবর পেয়ে রাত থেকেই ভাঙ্গা অংশে জিও ব্যাগ ফেলে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবে পানি বিপদসীমার উপরে থাকায় এখনো ওই অংশ দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রায় ৩শ’ মিটার অংশে জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় বাঁধ নির্মানের কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে ওই অংশ দিয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করছে। জনদুর্ভোগ বিবেচনা করে নদীর পাড়ে ওই খোলা অংশে ৩শ’ মিটার এলাকায় বøক ও জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করা হয়েছে। বাঁধ নির্মাণ হলে এই সমস্যা আর থাকবে না। এজন্য ৭ধারা জারীর অপেক্ষায় আছি। জমি অধিগ্রহন হলে আগামি বছরেই আমরা অবশিষ্ট বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষ করবো। এটি বাস্তবায়ন করা হলে এই অংশে ভাঙন সমস্যা আর থাকবে না।
এদিকে কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, পানি বৃদ্ধির ফলে নীচু এলাকায় অবস্থিত ৪৯৯ হেক্টর ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। এরমধ্যে আমন বীজতলা ৭১ হেক্টর, আউশ ধান ১৫০ হেক্টর, পাট ১৬৬ হেক্টর, শাক-সবজি ৮৭ হেক্টর, চিনা ৩ হেক্টর, মরিচ হেক্টর এবং চিনাবাদাম ২০ হেক্টর। জেলায় মাঠ পর্যায়ে ৩২ হাজার ৬৮০ হেক্টর ফসল দন্ডায়মান রয়েছেন।
জেলা ত্রাণ ও পূণর্বাসন কর্মকর্তা এ টি এম বেনজীর রহমান জানান, বন্যার কারণে ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় ১২ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পরেছে। আজকে পানি নেমে যাওয়ার ফলে পানিবন্দী মানুষের সংখ্যা দ্রæত কমে আসছে। বন্যা দুর্গতদের জন্য আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ২৭৫ মেট্রিকটন চাল ও ৮শ’ প্যাকেট শুকনো খাবার উপজেলা পর্যায়ে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও ভূরুঙ্গামারীতে বন্যা কবলিত এলাকায় ইউনিয়ন পর্যায়ে ৩০ মেট্রিকটন চাল ও ২শ’ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ পর্যায়ে রয়েছে।