১৭ কার্তিক, ১৪৩৩ - ০১ নভেম্বর, ২০২৬ - 01 November, 2026

সুন্দরগঞ্জে আল খিদমাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সচেতনতামূলক সভা

29
2026-11-01 16:51:32

news-picture

হযরত বেল্লাল, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা):

মাদক, জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত প্রতিরোধ। নতুন প্রজন্মকে অপরাধের পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে সামাজিক সচেতনতা, নৈতিক শিক্ষা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার রাতে উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের একতা বাজারে আল খিদমাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, আলেম, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সেলিম রেজা। বেলকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা মো. ইব্রাহীম খলিলুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আল খিদমাহ ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম।

ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক সুদীপ্ত শামীমের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বেলকা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর একেএম নাজমুল হুদা, সুন্দরগঞ্জ সদর দাখিল মাদরাসার সহকারী সুপার মাওলানা মো. গোলাম মোস্তফা, জিগাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম, ব্রাইট ড্রিম মডেল মাদরাসার অধ্যক্ষ ও ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা মাওলানা মো. সোলাইমান মিয়া।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন বেলকা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. আমিনুল ইসলাম, ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ও সুন্দরগঞ্জ সদর দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক মাওলানা মো. আব্দুল আজিজ, উপদেষ্টা মাওলানা মো. আবু ইউসুফ প্রমূখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেন ফাউন্ডেশনের সদস্য হাফেজ মো. আব্দুল খালেদ। পরে সচেতনতামূলক সংগীত পরিবেশন করেন রংধনু শিল্পীগোষ্ঠীর পরিচালক হাফেজ মো. আরিফুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, মাদক ও জুয়া ব্যক্তি ও পরিবারকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে তরুণদের একটি অংশ। এ অবস্থা থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

তারা আরও বলেন, তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ইতিবাচক সামাজিক উদ্যোগে সম্পৃক্ত করতে হবে। সন্তানদের চলাফেরা ও বন্ধুমহলের বিষয়ে অভিভাবকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

বক্তারা মাদক ব্যবসা ও সেবনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোথাও মাদক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও অত্যন্ত জরুরি।

সভা থেকে মাদক, জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন জোরদার এবং নতুন প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়