রংপুরে সদর ও বদরগঞ্জে রেক্টিফাইড স্পিরিট পানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৫॥ তিন থানায় পৃথক ৩টি মামলা দায়ের
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রংপুর জেলার শ্যামপুর এলাকায় বিষাক্ত রেক্টিফইড স্পিরিট পান করে তিন মাদকাসক্ত ব্যক্তির মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫জনে। সর্বশেষ ৩ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে সোমবার গভীর রাতে বদরগঞ্জ ও রংপুর সদরে। মৃতদের লাশ গোপনে দাফনের প্রস্তুতি নিলে পুলিশ খবর পেয়ে তা উদ্ধার করে ময়না তদন্তের পর মঙ্গলবার পরিবারের স্বজনদের কাছে হস্থান্তর করেছে।
মৃতরা হলেন, বদরগঞ্জ গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর এলাকার আমিরুল ইসলামের ছেলে আলমগীর হোসেন (৪০), রফিকুল ইসলামের ছেলে সোহেল মিয়া (৩২) ও রংপুর সদর থানার শ্যামপুর এলাকার সায়দার রহমান জিন্দার আলী(৩০)।
এঘটনার সাথে জড়িত জয়নুল আবেদীন (৩৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ওই মাদক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে পুলিশ ১০ বতল রেক্টিফাইড স্পিরিট উদ্ধার করেছে। তাকে মঙ্গলবার জেল হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ তথ্য জানিয়েছেন বদরগঞ্জ থানার ওসি হাসান জাহিদ সরকার।
এদিকে রংপুর সদর থানার শ্যামপুর এলাকার সায়দার রহমান জিন্দার আলীর(৩০) মৃত্যুও ঘটনায় কোতয়ালী সদর ধানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান, ওই থানার ওসি আব্দুল গফুর।
এ নিয়ে যুগান্তরের অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, গত ১০ জানুয়ারি শুক্রবার রংপুর সদরের নজিরেরহাট এলাকার রফিক হোমিও হল থেকে রেক্টিফাইড স্পিরিট ক্রয় করে পান করেন চন্দপাট ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের উলিয়ার রহমান (৪০)। তিনি ওই রাতে তা সেবন করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই রাতে ভোর বেলা সেখানে তার মৃত্যু হয়। এঘটনা পুলিশের কাছে আড়াল করতে স্থানীয়ভাবে দেনদরবার করে নিহতের লাশ গোপনে দাফন করা হয়। এ তথ্য জানা গেছে নিহতের নিকট আত্মীয় শফিয়ার রহমানের কাছে।
উলিয়ার রহমান (৪০) এর মৃত্যুর ঘটনায় কোন মামলা দায়ের করা হয়নি। তাকে গোপনে দাফন করায় থানা পুলিশর এ বিষয় কোন তথ্য দিতে পারেনি
সোমবার নগরীর হাজীরহাট থানা এলাকার হাজীরহাট বালাবাজারে রেক্টিফাইড স্পিরিট সেবন করে মৃত অনিল চন্দ্র রায়ের ছেলে মানিক চন্দ্র রায়(৬২) শরায়ার বাজারে সন্ধ্যায় অনুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার আগেই মারা যায়। এ ঘটনায় হাজিরহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের লাশ ময়না তদন্ত করে মঙ্গলবার পরিবারের কাছে হস্থান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাজিরহাট থানার ওসি আজাদ রহমান।