গঙ্গাচড়ায় কনকনে ঠান্ডা,ফুটপাতে গরম কাপড়ের দোকানে ক্রেতার উপচে পড়া ভিড়
নির্মল রায়: রংপুরের গঙ্গাচড়ায় জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। টানা চার দিন ধরে কনকনে ঠান্ডা হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উপজেলার স্বাভাবিক জনজীবন। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে জনপদ। কনকনে ঠান্ডার প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও নিম্ন আয়ের মানুষজন। ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। স্থানীয় চিকিৎসকদের তথ্যমতে, এই সময়ে সর্দি, কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত রোগীর চাপ বেড়েছে। তারা বলছেন, শিশু ও প্রবীণদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা ও নিয়মিত পরিচর্যা জরুরি। শীতের তীব্রতায় বাজার ও ফুটপাতগুলোতে বেড়েছে গরম কাপড়ের কেনাবেচা। বাজারের ফুটপাতজুড়ে সাজানো দোকানগুলোতে সোয়েটার, জ্যাকেট, হুডি, শিশুদের শীতের পোশাক, শাল ও কম্বলসহ নানা ধরনের গরম কাপড় দেখা যাচ্ছে। ক্রেতাদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের গরম কাপড়ের চাহিদা তুলনামূলক বেশি। স্বল্প দামে প্রয়োজনীয় পোশাক পাওয়া যায়, এই আশায় অনেকেই ফুটপাতের দোকানকেই বেছে নিচ্ছেন। স্থানীয় বিক্রেতারা জানান, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি কিছুটা বেড়েছে। সন্ধ্যার পর ক্রেতার চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। তবে আগের বছরের তুলনায় গরম কাপড়ের দাম কিছুটা বাড়ায় বিক্রিতে কিছুটা প্রভাব পড়ছে বলেও জানান তারা। ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে গরম কাপড়ের দাম তুলনামূলক সহনীয় হলেও পরিবারের সব সদস্যের জন্য কেনাকাটা করতে গিয়ে অনেককেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, শীতের প্রকোপ আরও বাড়লে গঙ্গাচড়ার ফুটপাতের গরম কাপড়ের বাজারে ক্রেতার ভিড় আরও বাড়বে। রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ছয়টার তথ্য অনুযায়ী রংপুরের তাপমাত্রা সর্বনিম্ন ১২.৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। সাথে মৃদু বাতাস রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, শীতার্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন ইউনিয়নে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ট্যাগ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন করে উপকারভোগীদের জন্য অতিরিক্ত শীতবস্ত্র কম্বলের চাহিদা জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে আরও শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে।